দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক
- আপডেট সময় ০৯:১৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 55
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে এতে তাঁর মৃত্যু হয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানান, তাঁর মক্কেল বেঁচে আছেন। তবে শারীরিক অবস্থা বা সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই।
৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালে হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যার দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলে। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের অনুমতি দেয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নিহত স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে টেনেসিতে গিয়েছিলেন। এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি ছিল ‘একেবারেই বিশৃঙ্খল’।
বৃহস্পতিবার পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। র্যান্ডি স্পাইভির ভাষ্য, ইনজেকশন দেওয়ার জন্য শিরায় ওষুধ প্রবেশের পথ তৈরি করতে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাইকের বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করতে দেখেন তিনি। একটি সুচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলেও জানান এই আইনজীবী।
স্পাইভি আরও বলেন, দ্বিতীয় দফায় প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছেন, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি বন্ধ পর্দার পেছনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, তা তাঁরা দেখতে পাননি।
আইনজীবীর দাবি, ওই সময় চিকিৎসাকর্মীরা কখন এবং কীভাবে পাইককে সহায়তা করতে শুরু করেন, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।
এ পরিস্থিতিতে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা। এর আগে একই ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, তাঁরা বিকল্প আইনি পথও খতিয়ে দেখছেন। তবে প্রথমে পাইকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করতে চান তাঁরা। এরপর তিনি নিজে কী চান, সে বিষয়ে মত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত হবে পূর্ণাঙ্গ এবং এতে সময় লাগবে। তাঁর ভাষ্য, এ ঘটনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে এবং অঙ্গরাজ্যের মানুষের সেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার আছে।
তবে তদন্ত কে পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন গভর্নর। এর ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকা গ্যারি সাটনের ক্ষেত্রেও এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে।
অন্যদিকে টেনেসি কারেকশন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের অনুমোদিত আইনসম্মত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ওষুধের কার্যকারিতা আগেও প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমবার প্রয়োগের চেষ্টা ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার ওষুধ দেওয়ার বিষয়টিও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ।
টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও স্বাধীন তদন্তের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। দপ্তরটির ভাষ্য, কী ঘটেছে, তা জানা প্রয়োজন।
চলতি বছর টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সফল হয়নি। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা স্থগিত করা হয়। সে সময় প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য তাঁর শরীরে শিরা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।





















