একটি ফোনকল ও ভেস্তে যাওয়া ইসলামাবাদ শান্তি সংলাপ
- আপডেট সময় ১০:৪৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 17
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সংলাপের এক পর্যায়ে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং দুই দেশ একটি সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
তবে ঠিক সেই মুহূর্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ফোনকল পুরো আলোচনার দৃশ্যপট বদলে দেয়।
আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, ওই ফোনকলের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে এবং এমন কিছু দাবি উত্থাপন করে যা যুদ্ধের ময়দানেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
এই আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটন বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং বর্তমান ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তান্তর করা।
জেডি ভ্যান্স এই শর্তগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও ইরান তা জাতীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বিবেচনা করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রভাবে তেলের দাম কিছুটা কমলেও আলোচনা ভেঙে যাওয়ার খবরে তা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে এই ঘটনা পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেও প্রকাশ্যে এনেছে। স্পেন ও ইতালির মতো দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে বা তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র নয় দিন বাকি থাকলেও কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে মার্চ মাস থেকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলা উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।





















