ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপত্তার অজুহাতে ফের দুর্নীতি মামলার শুনানি পেছানোর আবেদন নেতানিয়াহুর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 156

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে চলমান দীর্ঘদিনের দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করার জন্য আবারও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের’ কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে এই আবেদন দাখিল করা হয়েছে। মূলত আগামী রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে এই মামলার শুনানি পুনরায় শুরু হওয়ার কথা ছিল।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরায়েলে জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়। জরুরি অবস্থা উঠে যাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা কেটে যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা দুর্নীতির মামলার শুনানির পথ সুগম হয়। তবে শুনানি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এই স্থগিতাদেশের আবেদন এল।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে নেতানিয়াহুর আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, ‘নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণে প্রধানমন্ত্রী আগামী অন্তত দুই সপ্তাহ কোনো ধরনের সাক্ষ্য দিতে পারবেন না।’

আরও পড়ুন  গাজা ইস্যুতে উত্তপ্ত বৈঠক: নেতানিয়াহুর সামনে বাকবিতণ্ডায় জড়ালেন বেন গভির ও আইডিএফ প্রধান

এই নিরাপত্তার বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য একটি ‘সিলমোহরযুক্ত খাম’ আদালতের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ এই আবেদনের ওপর তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার পর আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

ইসরায়েলের ইতিহাসে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি এবং আস্থাভঙ্গের তিনটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়। যদিও শুরু থেকেই নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়া গত কয়েক বছরে যুদ্ধবিগ্রহ ও জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বারবার বিলম্বিত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, নেতানিয়াহু আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, এই বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নেতানিয়াহুকে সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে চাপ দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট হারজগ মার্কিন হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের ফলে ইসরায়েলের বিচার বিভাগের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায় রয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

নিরাপত্তার অজুহাতে ফের দুর্নীতি মামলার শুনানি পেছানোর আবেদন নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় ০৭:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে চলমান দীর্ঘদিনের দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করার জন্য আবারও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের’ কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে এই আবেদন দাখিল করা হয়েছে। মূলত আগামী রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে এই মামলার শুনানি পুনরায় শুরু হওয়ার কথা ছিল।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরায়েলে জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়। জরুরি অবস্থা উঠে যাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা কেটে যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা দুর্নীতির মামলার শুনানির পথ সুগম হয়। তবে শুনানি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এই স্থগিতাদেশের আবেদন এল।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে নেতানিয়াহুর আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, ‘নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণে প্রধানমন্ত্রী আগামী অন্তত দুই সপ্তাহ কোনো ধরনের সাক্ষ্য দিতে পারবেন না।’

আরও পড়ুন  নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা: হাঙ্গেরির কাছে ব্যাখ্যা চাইল আইসিসি

এই নিরাপত্তার বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য একটি ‘সিলমোহরযুক্ত খাম’ আদালতের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ এই আবেদনের ওপর তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার পর আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

ইসরায়েলের ইতিহাসে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি এবং আস্থাভঙ্গের তিনটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়। যদিও শুরু থেকেই নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়া গত কয়েক বছরে যুদ্ধবিগ্রহ ও জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বারবার বিলম্বিত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, নেতানিয়াহু আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, এই বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নেতানিয়াহুকে সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে চাপ দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট হারজগ মার্কিন হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের ফলে ইসরায়েলের বিচার বিভাগের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায় রয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি