ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আনোয়ারুল হক আর নেই শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির অভিযোগ গঠন শুনানি ১৯ এপ্রিল রাত ৭টা পর্যন্ত চলবে বিকিকিনি: নতুন সময়সীমা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হাম দমনে বিশেষ টিকাদান শুরু: অতীতের অবহেলাকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্কিন পাইলট উদ্ধার অভিযানে পাঁচজন নিহত: আইআরজিসি কুমিল্লায় বাসস্ট্যান্ডে ৩টি এসি বাসে রহস্যময় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রণবীরের নতুন ছবিতে নায়িকা কল্যাণী হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: বরগুনা সদর ‘রেড জোন’ ঘোষণা, ৩ শিশুর মৃত্যু দ্রব্যমূল্য বাড়বে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের, এখন শুধু ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 36

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিতে যাচ্ছে। ইরানের কৌশলগত জ্বালানি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের সামরিক হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরায়েল। তবে এই অভিযান শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুমোদনের ওপর।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে এই প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে এই হামলা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে যদি ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ থেকে তাদের অবরোধ তুলে না নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি কার্যকর সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের ওপর ‘নরক’ নামিয়ে আনা হবে। ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ইসরায়েল তাদের সামরিক প্রস্তুতির খতিয়ান তুলে ধরল।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক

আইডিএফ-এর কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। যদি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযানের অনুমতি আসে, তবে ইসরায়েল তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ব্যবহার করে ইরানের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রসহ প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হবে ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে তাদের প্রভাব খর্ব করা।

বিশ্বের খনিজ তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী। ইরানের পক্ষ থেকে এই পথে অবরোধ আরোপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন এই অবরোধকে সরাসরি উসকানি হিসেবে দেখছে। এজহারে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানকে চাপে রাখতে কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক কৌশলের সংমিশ্রণ ঘটাচ্ছে। ইসরায়েল এই সুযোগে তাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সামরিকভাবে দুর্বল করার সুযোগ খুঁজছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এএফপি ও এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম এবং ইসরায়েলের প্রস্তুতির খবরে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদি সত্যিই হামলা শুরু হয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কূটনৈতিক মহল এখনও শেষ মুহূর্তের কোনো আলোচনার মাধ্যমে এই উত্তেজনা প্রশমনের আশা করছে, যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের, এখন শুধু ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষা

আপডেট সময় ০৯:৪৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিতে যাচ্ছে। ইরানের কৌশলগত জ্বালানি ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের সামরিক হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরায়েল। তবে এই অভিযান শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুমোদনের ওপর।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে এই প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে এই হামলা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে যদি ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ থেকে তাদের অবরোধ তুলে না নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি কার্যকর সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের ওপর ‘নরক’ নামিয়ে আনা হবে। ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ইসরায়েল তাদের সামরিক প্রস্তুতির খতিয়ান তুলে ধরল।

আরও পড়ুন  সপ্তাহে ২ দিন হোম অফিসের খবরটি ‘ভুয়া’ বলছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের

আইডিএফ-এর কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। যদি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযানের অনুমতি আসে, তবে ইসরায়েল তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ব্যবহার করে ইরানের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রসহ প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হবে ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে তাদের প্রভাব খর্ব করা।

বিশ্বের খনিজ তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী। ইরানের পক্ষ থেকে এই পথে অবরোধ আরোপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন এই অবরোধকে সরাসরি উসকানি হিসেবে দেখছে। এজহারে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানকে চাপে রাখতে কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক কৌশলের সংমিশ্রণ ঘটাচ্ছে। ইসরায়েল এই সুযোগে তাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সামরিকভাবে দুর্বল করার সুযোগ খুঁজছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এএফপি ও এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম এবং ইসরায়েলের প্রস্তুতির খবরে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদি সত্যিই হামলা শুরু হয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কূটনৈতিক মহল এখনও শেষ মুহূর্তের কোনো আলোচনার মাধ্যমে এই উত্তেজনা প্রশমনের আশা করছে, যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।