০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাপুয়া নিউ গিনি: বৈচিত্র্যের দেশ, সংস্কৃতির বিস্ময়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 13

ছবি: সংগৃহীত

 

প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত Papua New Guinea ওশেনিয়া মহাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্র। এটি নিউ গিনি দ্বীপের পূর্ব অংশ এবং আশপাশের কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। রাজধানীর নাম পোর্ট মোরসবাই।

এই দেশকে আলাদা করতে যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। এখানে ৮০০-র বেশি ভাষা প্রচলিত, যা বিশ্বে সর্বাধিক ভাষাগত বৈচিত্র্যের একটি উদাহরণ। পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজেদের আলাদা পরিচয় ধরে রাখতে পেরেছে।

আরও পড়ুন  নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র: ব্রিগেডিয়ার শামছুল ইসলাম

ইতিহাসের দিকে তাকালে, হাজার হাজার বছর ধরে এখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। ১৬শ শতকে ইউরোপীয়দের আগমন শুরু হয়। পরে অঞ্চলটি জার্মানি ও ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ভাগ হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রেলিয়া প্রশাসনিক দায়িত্ব পায়। অবশেষে ১৯৭৫ সালে পাপুয়া নিউ গিনি স্বাধীনতা লাভ করে।

রাজনৈতিকভাবে, এটি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র। ব্রিটিশ রাজাকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, আর প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করেন। গণতান্ত্রিক কাঠামো থাকলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, শহরাঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা উন্নত হলেও গ্রামাঞ্চলে সুযোগ সীমিত। অর্থনীতি মূলত খনিজ সম্পদ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কৃষি ও মৎস্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে দারিদ্র্য, অবকাঠামোর অভাব ও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা দেশের বড় বাধা।

ধর্মীয়ভাবে, অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান। মুসলিম জনসংখ্যা খুবই ছোট, প্রধানত অভিবাসী ব্যবসায়ী ও কর্মীদের মাধ্যমে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, পাপুয়া নিউ গিনি একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে অক্ষত প্রাকৃতিক বন, পাহাড়ি অঞ্চল, সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীবন রয়েছে। আদিবাসী সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী উৎসব এবং রঙিন পোশাক পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা পর্যটনের বিকাশে প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে, পাপুয়া নিউ গিনি এমন একটি দেশ যেখানে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির গভীর মেলবন্ধন দেখা যায়। এটি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চললেও নিজস্ব ঐতিহ্য এখনো দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাপুয়া নিউ গিনি: বৈচিত্র্যের দেশ, সংস্কৃতির বিস্ময়

আপডেট সময় ০৬:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত Papua New Guinea ওশেনিয়া মহাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্র। এটি নিউ গিনি দ্বীপের পূর্ব অংশ এবং আশপাশের কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। রাজধানীর নাম পোর্ট মোরসবাই।

এই দেশকে আলাদা করতে যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। এখানে ৮০০-র বেশি ভাষা প্রচলিত, যা বিশ্বে সর্বাধিক ভাষাগত বৈচিত্র্যের একটি উদাহরণ। পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজেদের আলাদা পরিচয় ধরে রাখতে পেরেছে।

আরও পড়ুন  ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিলো পর্তুগাল

ইতিহাসের দিকে তাকালে, হাজার হাজার বছর ধরে এখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। ১৬শ শতকে ইউরোপীয়দের আগমন শুরু হয়। পরে অঞ্চলটি জার্মানি ও ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ভাগ হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রেলিয়া প্রশাসনিক দায়িত্ব পায়। অবশেষে ১৯৭৫ সালে পাপুয়া নিউ গিনি স্বাধীনতা লাভ করে।

রাজনৈতিকভাবে, এটি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র। ব্রিটিশ রাজাকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, আর প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করেন। গণতান্ত্রিক কাঠামো থাকলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, শহরাঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা উন্নত হলেও গ্রামাঞ্চলে সুযোগ সীমিত। অর্থনীতি মূলত খনিজ সম্পদ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কৃষি ও মৎস্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে দারিদ্র্য, অবকাঠামোর অভাব ও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা দেশের বড় বাধা।

ধর্মীয়ভাবে, অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান। মুসলিম জনসংখ্যা খুবই ছোট, প্রধানত অভিবাসী ব্যবসায়ী ও কর্মীদের মাধ্যমে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, পাপুয়া নিউ গিনি একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে অক্ষত প্রাকৃতিক বন, পাহাড়ি অঞ্চল, সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীবন রয়েছে। আদিবাসী সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী উৎসব এবং রঙিন পোশাক পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা পর্যটনের বিকাশে প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে, পাপুয়া নিউ গিনি এমন একটি দেশ যেখানে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির গভীর মেলবন্ধন দেখা যায়। এটি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চললেও নিজস্ব ঐতিহ্য এখনো দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে।