ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আনোয়ারুল হক আর নেই শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির অভিযোগ গঠন শুনানি ১৯ এপ্রিল রাত ৭টা পর্যন্ত চলবে বিকিকিনি: নতুন সময়সীমা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হাম দমনে বিশেষ টিকাদান শুরু: অতীতের অবহেলাকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্কিন পাইলট উদ্ধার অভিযানে পাঁচজন নিহত: আইআরজিসি কুমিল্লায় বাসস্ট্যান্ডে ৩টি এসি বাসে রহস্যময় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রণবীরের নতুন ছবিতে নায়িকা কল্যাণী হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: বরগুনা সদর ‘রেড জোন’ ঘোষণা, ৩ শিশুর মৃত্যু দ্রব্যমূল্য বাড়বে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

যেসব শিশু এখন নিতে পারবে না হামের টিকা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 33

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত জেলা ও উপজেলাগুলোতে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তবে বিশেষ এই ক্যাম্পেইনে সব শিশুকে এখনই টিকা দেওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় শিশুদের এই মুহূর্তে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব শিশু এই বিশেষ কর্মসূচির আওতাভুক্ত হলেও নিচের শারীরিক অবস্থায় থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে:

আরও পড়ুন  শিশুর করুণ মৃত্যু: যশোরে পুকুর ও বালতির পানিতে ডুবে তিনজনের প্রাণহানি

বর্তমান অসুস্থতা: যেসব শিশু বর্তমানে উচ্চ জ্বর, তীব্র সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টে ভুগছে, তাদের পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া স্থগিত রাখতে হবে।
অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া: আগে কখনো হামের টিকা নেওয়ার পর যদি কোনো শিশুর শরীরে মারাত্মক অ্যালার্জি বা ‘অ্যানাফাইল্যাক্সিস’ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়ে থাকে, তবে তাদের পুনরায় এই টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা: যেসব শিশু জন্মগতভাবে বা চিকিৎসাজনিত কারণে (যেমন: ক্যানসার বা দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড সেবন) দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় ভুগছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টিকা দেওয়া যাবে না।
রক্ত গ্রহণকারী শিশু: যেসব শিশু সম্প্রতি রক্ত বা রক্তজাত কোনো পণ্য গ্রহণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পার না হওয়া পর্যন্ত টিকা দান কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত বা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। এছাড়া যারা আগে হামের টিকা নিয়েছে, তারাও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় পুনরায় টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রথম ধাপ: দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার আওতাধীন ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা: পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিভাবকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু অসুস্থ থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই; সুস্থ হওয়ার পর নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকারি এই মহতী উদ্যোগে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

যেসব শিশু এখন নিতে পারবে না হামের টিকা

আপডেট সময় ১০:৫৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত জেলা ও উপজেলাগুলোতে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তবে বিশেষ এই ক্যাম্পেইনে সব শিশুকে এখনই টিকা দেওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় শিশুদের এই মুহূর্তে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব শিশু এই বিশেষ কর্মসূচির আওতাভুক্ত হলেও নিচের শারীরিক অবস্থায় থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে:

আরও পড়ুন  সীতাকুণ্ডের সেই ছোট্ট শিশুটির সঙ্গে কী হয়েছিল? ঘাতকের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

বর্তমান অসুস্থতা: যেসব শিশু বর্তমানে উচ্চ জ্বর, তীব্র সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টে ভুগছে, তাদের পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া স্থগিত রাখতে হবে।
অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া: আগে কখনো হামের টিকা নেওয়ার পর যদি কোনো শিশুর শরীরে মারাত্মক অ্যালার্জি বা ‘অ্যানাফাইল্যাক্সিস’ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়ে থাকে, তবে তাদের পুনরায় এই টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা: যেসব শিশু জন্মগতভাবে বা চিকিৎসাজনিত কারণে (যেমন: ক্যানসার বা দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড সেবন) দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় ভুগছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টিকা দেওয়া যাবে না।
রক্ত গ্রহণকারী শিশু: যেসব শিশু সম্প্রতি রক্ত বা রক্তজাত কোনো পণ্য গ্রহণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পার না হওয়া পর্যন্ত টিকা দান কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত বা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। এছাড়া যারা আগে হামের টিকা নিয়েছে, তারাও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় পুনরায় টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রথম ধাপ: দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার আওতাধীন ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা: পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিভাবকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু অসুস্থ থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই; সুস্থ হওয়ার পর নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকারি এই মহতী উদ্যোগে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।