ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সুচিত্রা সেনের জন্মদিন: মহানায়িকার জীবন ও চলচ্চিত্রের ১০টি অজানা তথ্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 26

ছবিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি

আজ বাংলা চলচ্চিত্রের চিরস্মরণীয় মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জন্মদিন। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনায় জন্মগ্রহণ করা রমা দাশগুপ্তই পরবর্তীতে সুচিত্রা সেন নামে দুই বাংলায় রাজত্ব করেছেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে জীবন ও ক্যারিয়ারের ১০টি আকর্ষণীয় তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

পাবনা থেকে কলকাতা: তাঁর প্রকৃত নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। পাবনায় শৈশব কাটানো রমা পরবর্তীতে কলকাতায় পাড়ি জমান এবং রূপালি পর্দার ‘সুচিত্রা’ হয়ে ওঠেন।
প্রথম ছবির মুক্তি মেলেনি: ১৯৫২ সালে সুচিত্রা সেনের প্রথম অভিনীত বাংলা ছবি ছিল ‘শেষ কোথায়’। তবে দুর্ভাগ্যবশত ছবিটি কখনোই মুক্তি পায়নি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ১৯৬৩ সালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবির জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। তিনিই ছিলেন আন্তর্জাতিক উৎসবে পুরস্কারজয়ী প্রথম বাঙালি অভিনেত্রী।
বলিউড অভিষেক ও পার্বতী: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ অবলম্বনে নির্মিত হিন্দি ছবিতে তিনিই প্রথম ‘পার্বতী’ বা পারু চরিত্রে অভিনয় করেন এবং সেরা অভিনেত্রীর মর্যাদা পান।
নিষিদ্ধ হয়েছিল ‘আন্ধি’: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রের ছায়া থাকায় তাঁর অভিনীত ‘আন্ধি’ ছবিটি গুজরাটে ২০ সপ্তাহ নিষিদ্ধ ছিল।
উত্তম-সুচিত্রা জুটি: ১৯৫৩ সালের ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির মাধ্যমে এই কালজয়ী জুটির যাত্রা শুরু হয়। তাঁরা একসঙ্গে প্রায় ৩০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন।
সত্যজিৎ রায়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: অস্কারজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায় তাঁকে ‘চৌধুরানী’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সুচিত্রা তা ফিরিয়ে দেন, ফলে সত্যজিৎ ছবিটি আর নির্মাণই করেননি।
দ্বৈত চরিত্রে অনবদ্য: ‘উত্তর ফাল্গুনী’ ছবিতে তিনি একইসঙ্গে যৌনকর্মী পান্নাবাই এবং তাঁর কন্যা আইনজীবী সুপর্ণার দুই বিপরীতধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
দাদাসাহেব ফালকে প্রত্যাখ্যান: জনসমক্ষে আসতে চাননি বলে তিনি ভারতের সম্মানজনক ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ পুরস্কারটি নিতে তাঁকে দিল্লি যেতে হতো।
স্বেচ্ছায় অন্তরাল: ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ নিজেকে চলচ্চিত্র থেকে সরিয়ে নেন। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি রামকৃষ্ণ মিশনে নির্জনে কাটিয়েছেন, যার ফলে তাঁকে হলিউড কিংবদন্তি গ্রেটা গার্বোর সঙ্গে তুলনা করা হয়।

আরও পড়ুন  ৬০-এ প্রেমের নতুন অধ্যায়! জন্মদিনে রহস্যময়ী গৌরীকে প্রকাশ্যে আনলেন আমির খান

নিউজটি শেয়ার করুন

সুচিত্রা সেনের জন্মদিন: মহানায়িকার জীবন ও চলচ্চিত্রের ১০টি অজানা তথ্য

আপডেট সময় ১২:৪০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

আজ বাংলা চলচ্চিত্রের চিরস্মরণীয় মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জন্মদিন। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনায় জন্মগ্রহণ করা রমা দাশগুপ্তই পরবর্তীতে সুচিত্রা সেন নামে দুই বাংলায় রাজত্ব করেছেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে জীবন ও ক্যারিয়ারের ১০টি আকর্ষণীয় তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

পাবনা থেকে কলকাতা: তাঁর প্রকৃত নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। পাবনায় শৈশব কাটানো রমা পরবর্তীতে কলকাতায় পাড়ি জমান এবং রূপালি পর্দার ‘সুচিত্রা’ হয়ে ওঠেন।
প্রথম ছবির মুক্তি মেলেনি: ১৯৫২ সালে সুচিত্রা সেনের প্রথম অভিনীত বাংলা ছবি ছিল ‘শেষ কোথায়’। তবে দুর্ভাগ্যবশত ছবিটি কখনোই মুক্তি পায়নি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ১৯৬৩ সালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবির জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। তিনিই ছিলেন আন্তর্জাতিক উৎসবে পুরস্কারজয়ী প্রথম বাঙালি অভিনেত্রী।
বলিউড অভিষেক ও পার্বতী: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ অবলম্বনে নির্মিত হিন্দি ছবিতে তিনিই প্রথম ‘পার্বতী’ বা পারু চরিত্রে অভিনয় করেন এবং সেরা অভিনেত্রীর মর্যাদা পান।
নিষিদ্ধ হয়েছিল ‘আন্ধি’: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রের ছায়া থাকায় তাঁর অভিনীত ‘আন্ধি’ ছবিটি গুজরাটে ২০ সপ্তাহ নিষিদ্ধ ছিল।
উত্তম-সুচিত্রা জুটি: ১৯৫৩ সালের ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির মাধ্যমে এই কালজয়ী জুটির যাত্রা শুরু হয়। তাঁরা একসঙ্গে প্রায় ৩০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন।
সত্যজিৎ রায়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: অস্কারজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায় তাঁকে ‘চৌধুরানী’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সুচিত্রা তা ফিরিয়ে দেন, ফলে সত্যজিৎ ছবিটি আর নির্মাণই করেননি।
দ্বৈত চরিত্রে অনবদ্য: ‘উত্তর ফাল্গুনী’ ছবিতে তিনি একইসঙ্গে যৌনকর্মী পান্নাবাই এবং তাঁর কন্যা আইনজীবী সুপর্ণার দুই বিপরীতধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
দাদাসাহেব ফালকে প্রত্যাখ্যান: জনসমক্ষে আসতে চাননি বলে তিনি ভারতের সম্মানজনক ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ পুরস্কারটি নিতে তাঁকে দিল্লি যেতে হতো।
স্বেচ্ছায় অন্তরাল: ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ নিজেকে চলচ্চিত্র থেকে সরিয়ে নেন। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি রামকৃষ্ণ মিশনে নির্জনে কাটিয়েছেন, যার ফলে তাঁকে হলিউড কিংবদন্তি গ্রেটা গার্বোর সঙ্গে তুলনা করা হয়।

আরও পড়ুন  নার্সিংয়ের আলোকবর্তিকা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন আজ