ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
১৩ মার্চ থেকে ঈদ ফিরতি ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকটে কনটেইনার ডিপোর কার্যক্রম ঝুঁকিতে ত্রয়োদশ সংসদ: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে টয়োটা ইসরায়েলে একযোগে ১০০টি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরান-হিজবুল্লাহর উপদেষ্টা নিয়োগের চিঠি নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ মন্ত্রণালয়ের তানজিদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজ জয় বাংলাদেশের দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দুটি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি: জামায়াত আমির ঈদযাত্রায় প্রতি বাসে দুইজন চালক রাখার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন মঞ্জুর: কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই

চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকটে কনটেইনার ডিপোর কার্যক্রম ঝুঁকিতে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 10

ছবি: সংগৃহীত

ডিজেল সংকটের কারণে চট্টগ্রামের বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদামতো ডিজেল সরবরাহ না করায় রপ্তানি পণ্য পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে দেশের রপ্তানি প্রবাহের পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রম এবং বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে। গত সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি খলিলুর রহমান ডিপোগুলোর দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান, যাতে রপ্তানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা যায়।

দেশের মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এসব ডিপোর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। এখান থেকে কনটেইনার বন্দরে পাঠানো হয় এবং পরে জাহাজে তুলে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কনটেইনার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে আজ জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন: লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ৮৫ হাজার শিশু

সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে অবস্থিত ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো দেশের প্রায় সব রপ্তানি কনটেইনার এবং প্রায় ২৫ শতাংশ আমদানি কনটেইনার পরিচালনা করে। এগুলো মূলত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়ক স্থাপনা হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রপ্তানি কনটেইনার এখানে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পরে জাহাজে তোলা হয়। ফলে রপ্তানি প্রবাহ সচল রাখতে এসব ডিপোর নিয়মিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিপোগুলোর প্রায় সব কার্যক্রম ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে রিচ স্ট্যাকার, সাইড লিফটার, টপ লোডার, ফর্কলিফট ও কনটেইনার ট্রেইলার। এসব যন্ত্রপাতি চালাতে ২১টি ডিপোর সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি সম্প্রতি জ্বালানি ঘাটতির কথা জানিয়ে ডিপোগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

সংগঠনটির মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, তেল কোম্পানিগুলো মৌখিকভাবে সরবরাহ স্থগিতের বিষয়টি জানিয়েছে। তিনি বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে বেশির ভাগ ডিপো দ্রুত তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়বে। এতে দেশের রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংগঠনটির সভাপতি গত সোমবার পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান তিনি। চিঠিতে ডিপোগুলোর দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে দুই দিন ধরে ডিপোগুলোতে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় কিছু তথ্য চেয়েছে। সেগুলো পাঠানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। আশা করা হচ্ছে, সমস্যার সমাধান হলে আবার ডিপোগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকটে কনটেইনার ডিপোর কার্যক্রম ঝুঁকিতে

আপডেট সময় ১২:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ডিজেল সংকটের কারণে চট্টগ্রামের বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদামতো ডিজেল সরবরাহ না করায় রপ্তানি পণ্য পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে দেশের রপ্তানি প্রবাহের পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রম এবং বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে। গত সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি খলিলুর রহমান ডিপোগুলোর দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান, যাতে রপ্তানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা যায়।

দেশের মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এসব ডিপোর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। এখান থেকে কনটেইনার বন্দরে পাঠানো হয় এবং পরে জাহাজে তুলে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কনটেইনার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন  এনবিআরের নাম পরিবর্তন হচ্ছে, থাকবে দুটি নতুন বিভাগ: জ্বালানি উপদেষ্টা

সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে অবস্থিত ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো দেশের প্রায় সব রপ্তানি কনটেইনার এবং প্রায় ২৫ শতাংশ আমদানি কনটেইনার পরিচালনা করে। এগুলো মূলত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়ক স্থাপনা হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রপ্তানি কনটেইনার এখানে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পরে জাহাজে তোলা হয়। ফলে রপ্তানি প্রবাহ সচল রাখতে এসব ডিপোর নিয়মিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিপোগুলোর প্রায় সব কার্যক্রম ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে রিচ স্ট্যাকার, সাইড লিফটার, টপ লোডার, ফর্কলিফট ও কনটেইনার ট্রেইলার। এসব যন্ত্রপাতি চালাতে ২১টি ডিপোর সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি সম্প্রতি জ্বালানি ঘাটতির কথা জানিয়ে ডিপোগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

সংগঠনটির মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, তেল কোম্পানিগুলো মৌখিকভাবে সরবরাহ স্থগিতের বিষয়টি জানিয়েছে। তিনি বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে বেশির ভাগ ডিপো দ্রুত তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়বে। এতে দেশের রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংগঠনটির সভাপতি গত সোমবার পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান তিনি। চিঠিতে ডিপোগুলোর দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে দুই দিন ধরে ডিপোগুলোতে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় কিছু তথ্য চেয়েছে। সেগুলো পাঠানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। আশা করা হচ্ছে, সমস্যার সমাধান হলে আবার ডিপোগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে।