ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রতিশ্রুতি দিয়েও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলার, কথা রাখলেন না ট্রাম্প ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অন্তত ৩০ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরাকে ১৫ জন নিহত,আহত অন্তত ৩০ জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে একমত সংসদীয় কমিটি অপরাধ দমনে চালু হচ্ছে ‘হটলাইন’: প্রতিমন্ত্রী পুতুল দেশে জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস, তবে সরবরাহে চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে তেল-নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে: সতর্কবার্তা মির্জা ফখরুলের পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০ আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই ভোল পাল্টালেন ট্রাম্প

ঝালকাঠির পতিত জমিতে তুলা চাষে সাফল্য, গাবখান অঞ্চলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
  • / 294

ছবি: সংগৃহীত

 

ঝালকাঠির গাবখান নদীর তীরে পরিত্যক্ত জমিতে তুলা চাষ করে ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন একদল উদ্যোমী কৃষক। একসময় যেখানে জঙ্গল ছাওয়া জমি পড়ে ছিল অব্যবহৃত, এখন সেই জমিতেই দুলছে তুলার শুভ্র সাদা ফুল। ‘বাংলার সুয়েজ খাল’ খ্যাত গাবখান নদীর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ৮ বিঘা জমিতে ১৫ বছর ধরে চলছে তুলা চাষ, যার পেছনে রয়েছে যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিরলস সহায়তা।

পঞ্চম চীন-মৈত্রী সেতুর পাশের রূপসিয়া গ্রাম থেকে শুরু করে গাবখান হয়ে শেখেরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত এ কৃষিভূমি এখন পরিচিতি পেয়েছে সফল চাষাবাদের উদাহরণ হিসেবে। এখানে শুধু তুলা নয়, পেয়ারা, মাল্টা, বরই, কলা ও সৌদি খেজুরসহ নানা ফলের চাষও হচ্ছে। কৃষকদের পাশে রয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

আরও পড়ুন  জালেমদের বিচার দ্রুত নিশ্চিতের দাবি জামায়াত আমিরের

২০১১ সালে রুপালি-১ ও হোয়াইট গোল্ড জাতের তুলা দিয়ে শুরু হয় পরীক্ষামূলক চাষ। সময়ের সঙ্গে সফলতা মুঠোবন্দি করে এখন এই চাষই হয়ে উঠেছে জীবিকা ও স্বপ্ন গড়ার হাতিয়ার। বীজ রোপণের ৫৫-৬০ দিনের মাথায় গাছে ফুল ধরে, চৈত্র-বৈশাখে সংগ্রহ করা হয় তুলা। প্রতি একরে ১০-১৫ মণ পর্যন্ত ফলন মিলছে।

চাষিরা বলছেন, মাঠ থেকেই মিল মালিকরা তুলা কিনে নেওয়ায় লাভও হচ্ছে ভালো। স্থানীয় বেকার, নারী ও বয়স্কদের জন্য এ তুলা ক্ষেতই এখন কর্মসংস্থানের জায়গা। কেউ সংগ্রহ করছেন কেজি ধরে, কেউ কাজ করছেন দৈনিক মজুরিতে। লাল মিয়া ও হেনারা বেগমের মতো অনেকেই জানান, তুলার কাজ না থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হতো।

উদ্যোক্তা আব্দুল হালিম জানান, ‘পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেই ১৫ বছর ধরে তুলা চাষ করে যাচ্ছি। শুধু তুলা নয়, এর বীজ থেকেও তৈল ও খৈড় তৈরি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।’

তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস.এম. জাকির বিন আলম বলেন, ‘এখানকার তুলা যশোরের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঝালকাঠির পতিত জমিগুলো তুলা চাষে ব্যবহৃত হলে স্থানীয় কৃষকের জীবন বদলে যেতে পারে।’

গাবখানের তুলা এখন শুধু সাদা সুতোর উৎস নয়, এটি হয়ে উঠেছে শত মানুষকে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগানো এক সম্ভাবনার গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝালকাঠির পতিত জমিতে তুলা চাষে সাফল্য, গাবখান অঞ্চলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

আপডেট সময় ০৩:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

 

ঝালকাঠির গাবখান নদীর তীরে পরিত্যক্ত জমিতে তুলা চাষ করে ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন একদল উদ্যোমী কৃষক। একসময় যেখানে জঙ্গল ছাওয়া জমি পড়ে ছিল অব্যবহৃত, এখন সেই জমিতেই দুলছে তুলার শুভ্র সাদা ফুল। ‘বাংলার সুয়েজ খাল’ খ্যাত গাবখান নদীর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ৮ বিঘা জমিতে ১৫ বছর ধরে চলছে তুলা চাষ, যার পেছনে রয়েছে যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিরলস সহায়তা।

পঞ্চম চীন-মৈত্রী সেতুর পাশের রূপসিয়া গ্রাম থেকে শুরু করে গাবখান হয়ে শেখেরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত এ কৃষিভূমি এখন পরিচিতি পেয়েছে সফল চাষাবাদের উদাহরণ হিসেবে। এখানে শুধু তুলা নয়, পেয়ারা, মাল্টা, বরই, কলা ও সৌদি খেজুরসহ নানা ফলের চাষও হচ্ছে। কৃষকদের পাশে রয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

আরও পড়ুন  ঝালকাঠির বিলাতি গাবের সুবাস ছড়াচ্ছে দেশের প্রান্তে প্রান্তে, বাড়ছে দেশজুড়ে চাহিদা

২০১১ সালে রুপালি-১ ও হোয়াইট গোল্ড জাতের তুলা দিয়ে শুরু হয় পরীক্ষামূলক চাষ। সময়ের সঙ্গে সফলতা মুঠোবন্দি করে এখন এই চাষই হয়ে উঠেছে জীবিকা ও স্বপ্ন গড়ার হাতিয়ার। বীজ রোপণের ৫৫-৬০ দিনের মাথায় গাছে ফুল ধরে, চৈত্র-বৈশাখে সংগ্রহ করা হয় তুলা। প্রতি একরে ১০-১৫ মণ পর্যন্ত ফলন মিলছে।

চাষিরা বলছেন, মাঠ থেকেই মিল মালিকরা তুলা কিনে নেওয়ায় লাভও হচ্ছে ভালো। স্থানীয় বেকার, নারী ও বয়স্কদের জন্য এ তুলা ক্ষেতই এখন কর্মসংস্থানের জায়গা। কেউ সংগ্রহ করছেন কেজি ধরে, কেউ কাজ করছেন দৈনিক মজুরিতে। লাল মিয়া ও হেনারা বেগমের মতো অনেকেই জানান, তুলার কাজ না থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হতো।

উদ্যোক্তা আব্দুল হালিম জানান, ‘পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেই ১৫ বছর ধরে তুলা চাষ করে যাচ্ছি। শুধু তুলা নয়, এর বীজ থেকেও তৈল ও খৈড় তৈরি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।’

তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস.এম. জাকির বিন আলম বলেন, ‘এখানকার তুলা যশোরের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঝালকাঠির পতিত জমিগুলো তুলা চাষে ব্যবহৃত হলে স্থানীয় কৃষকের জীবন বদলে যেতে পারে।’

গাবখানের তুলা এখন শুধু সাদা সুতোর উৎস নয়, এটি হয়ে উঠেছে শত মানুষকে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগানো এক সম্ভাবনার গল্প।