০১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 37

ছবি সংগৃহীত

 

শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জিয়াউল আহসানের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ করে দেন। পরে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান। অভিযোগ পাঠ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জিয়াউল আহসান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘নট গিল্টি’।

এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্য প্রসিকিউটররা। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
এদিন সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তিনি একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী রয়েছেন।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি আসামিপক্ষ প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে দাবি করে, এসব ঘটনার সঙ্গে জিয়াউল আহসানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ কারণে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন নাকচ করেন।

মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে তার সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলাসংলগ্ন সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই সব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং সেদিনই প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু

আপডেট সময় ০২:২৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

 

শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জিয়াউল আহসানের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ করে দেন। পরে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পাঠ করে শোনান। অভিযোগ পাঠ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জিয়াউল আহসান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘নট গিল্টি’।

এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচি নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্য প্রসিকিউটররা। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
এদিন সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তিনি একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী রয়েছেন।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি আসামিপক্ষ প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে দাবি করে, এসব ঘটনার সঙ্গে জিয়াউল আহসানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ কারণে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন নাকচ করেন।

মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে তার সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলাসংলগ্ন সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই সব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং সেদিনই প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।