ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
উপদেষ্টা নিয়োগের চিঠি নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ মন্ত্রণালয়ের তানজিদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজ জয় বাংলাদেশের দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দুটি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি: জামায়াত আমির ঈদযাত্রায় প্রতি বাসে দুইজন চালক রাখার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন মঞ্জুর: কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই উরুগুয়ে: ছোট কিন্তু উন্নত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে থাকছে না গণভোট: ইসি সচিব সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করল ডিএমপি সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি; স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন কাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধে সৃষ্ট আর্থিক বিপর্যয় ঠেকাতে হরমুজ প্রণালীতে কর বসাবে ইরান

প্রকাশ্যে পিটিয়ে যুবককে হত্যা করে বাজারে মিষ্টি বিতরণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 264

ছবি : সংগৃহীত

 

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ব্যক্তিকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার (রাত ১০টা) উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫)। তিনি কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক।

আরও পড়ুন  চকরিয়ায় সড়কে গুলি করে যুবককে হত্যা

পুলিশ জানায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে গিয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন। এ নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দেওয়া হয় এবং তিনি সেখান থেকে সরে যান।

কিছুক্ষণ পর কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে। এরপর লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তার মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ছুরি পাওয়া গেছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, তারা দলীয় অফিসে নির্বাচনী আলোচনা করছিলেন। এ সময় মিজান সেখানে এসে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি চলে যান। এরপর কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টিও তার জানা নেই বলে দাবি করেন।

তবে ঘটনার পর বাজারে মিষ্টি বিতরণের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এলাকায় মিজান ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকায় হত্যার পর তাকে ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রকাশ্যে পিটিয়ে যুবককে হত্যা করে বাজারে মিষ্টি বিতরণ

আপডেট সময় ১১:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

 

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ব্যক্তিকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার (রাত ১০টা) উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫)। তিনি কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক।

আরও পড়ুন  রংপুরে একযুগ পর শিবির নেতা আশিকুর রহমান হত্যার বিচার চেয়ে আ. লীগের দুই সাবেক এমপির নামে মামলা

পুলিশ জানায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে গিয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন। এ নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দেওয়া হয় এবং তিনি সেখান থেকে সরে যান।

কিছুক্ষণ পর কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে। এরপর লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তার মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ছুরি পাওয়া গেছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, তারা দলীয় অফিসে নির্বাচনী আলোচনা করছিলেন। এ সময় মিজান সেখানে এসে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি চলে যান। এরপর কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টিও তার জানা নেই বলে দাবি করেন।

তবে ঘটনার পর বাজারে মিষ্টি বিতরণের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এলাকায় মিজান ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকায় হত্যার পর তাকে ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।