নরসিংদীতে স্বর্ণকারদের দ্বন্দ্বে অ্যাসিড নিক্ষেপ, ঝলসে গেল ৩ বন্ধুর শরীর
- আপডেট সময় ১০:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 22
নরসিংদীর রায়পুরায় ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই স্বর্ণকারের বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রায়পুরা পৌরসভার হাসিমপুর মৌলভীবাজারে এ হামলায় তিন যুবক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহতরা হলেন— রায়পুরার শ্রীরামপুর এলাকার দ্বীপ বিশ্বাস (১৯), ওবায়দুল্লাহ (১৯) এবং আহমেদ সেজান (১৮)। এদের মধ্যে দ্বীপ বিশ্বাস ‘বিশ্বাস স্বর্ণ শিল্পালয়’-এর মালিক দুলাল বিশ্বাসের ছেলে এবং বাকি দুইজন তার সহপাঠী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্বীপের চোখের কর্নিয়া অ্যাসিডে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুরা বাজারের ‘বিশ্বাস স্বর্ণ শিল্পালয়’-এর মালিক দুলাল বিশ্বাসের সঙ্গে হাসিমপুর মৌলভীবাজারের ‘লতা স্বর্ণ শিল্পালয়’-এর মালিক কেশব স্বর্ণকারের বকেয়া টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার জেরে দুলালের ছেলে দ্বীপ তার বন্ধুদের নিয়ে কেশব স্বর্ণকারের দোকানে গিয়ে পুনরায় বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
তর্কের এক পর্যায়ে লতা স্বর্ণ শিল্পালয়ের দুই কর্মচারী উদয় ও সৌরভ ক্ষিপ্ত হয়ে স্বর্ণালংকার তৈরিতে ব্যবহৃত অ্যাসিড বালতি বা মগ থেকে সরাসরি ওই তিন যুবকের ওপর লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করেন। এতে মুহূর্তেই তিনজনের শরীর ঝলসে যায়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত দুই কর্মচারী দোকানে তালা ঝুলিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
আহতদের দ্রুত রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। দ্বীপের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওবায়দুল্লাহ ও সেজানের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে রায়পুরা থানা পুলিশ ইতিমধ্যে লতা স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক কেশব রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে অভিযুক্ত দুই কর্মচারী উদয় ও সৌরভ এখনো পলাতক রয়েছেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ আনুষঙ্গিক প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান জানান, ব্যবসায়িক লেনদেন কেন্দ্রিক বিরোধ থেকেই এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, “আমরা একজনকে হেফাজতে নিয়েছি। ভুক্তভোগীরা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে হাসিমপুর মৌলভীবাজার এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।























