স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠে ‘নিষেধ’: রাজশাহী-১ আসনের এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
- আপডেট সময় ০৬:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / 17
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে পবিত্র গীতা পাঠ না করার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে সংসদ সদস্যের এমন কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান সূচি নির্ধারণের বিষয়ে সংসদ সদস্যের পরামর্শ চেয়েছিলেন তানোরের ইউএনও নাঈমা খান। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় এমপি মুজিবুর রহমান তাকে অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ না রাখার মৌখিক নির্দেশনা দেন।
বিষয়টি স্বীকার করে ইউএনও নাঈমা খান জানান, সংসদ সদস্য তাকে গীতা পাঠ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেন যে জেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের প্রথা চালু রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বজায় রাখতে তিনি অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেন। তানোরের ডাকবাংলো মাঠে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের এক নারী কর্মকর্তা অনুবাদসহ গীতা পাঠ সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ২৮ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ইউএনও’র কাছে গীতা পাঠে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল কি না তা জানতে চাচ্ছেন। জবাবে ইউএনও জানান, অন্যান্য স্থানের মতো তানোরেও নিয়ম মেনেই গীতা পাঠ করা হয়েছে। যদিও ওই সময় সংসদ সদস্য মাঠে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তিনি পরবর্তীতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সরাসরি মন্তব্য না করলেও গণমাধ্যমের কাছে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তার দাবি, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কেবল কোরআন তিলাওয়াতের প্রচলন ছিল। তিনি বর্তমান জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালীর উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানেও বর্তমানে শুধুমাত্র কোরআন তিলাওয়াত হয়। তবে তানোরের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের সমান অবদান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সব ধর্মের গ্রন্থ থেকে পাঠ হওয়াই যুক্তিযুক্ত এবং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিচয় দেয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধানে সব ধর্মের প্রতি সমান সম্মানের কথা বলা হয়েছে এবং স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন নির্দেশনা সম্প্রীতির পরিপন্থি।
























