ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মদিনার ঐতিহাসিক ‘মসজিদে বনু আনিফ’: পাথরে গাঁথা প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • / 185

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা-র কুবা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘মসজিদে বনু আনিফ’ আজও বহন করছে ইসলামের প্রাচীন ইতিহাসের নিদর্শন; কুবা মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ঐতিহাসিক হিজরত সড়কের পাশে অবস্থিত এই মসজিদটি দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকলেও বর্তমানে নতুন রূপে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে তৎকালীন ‘বনু আনিফ’ গোত্রের নাম অনুসারে; এই গোত্রটি আরবের বিখ্যাত ‘বালি’ গোত্রের একটি উপশাখা ছিল এবং ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে তারা কুবা এলাকায় বসবাস করত; মসজিদটি ছিল তাদের ইবাদতের প্রধান কেন্দ্র।

মসজিদটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর নির্মাণশৈলী; এটি সম্পূর্ণভাবে মদিনার স্থানীয় কালো ব্যাসাল্ট পাথর দিয়ে নির্মিত; আধুনিক স্থাপত্যের ভিড়ে এই পাথুরে দেয়ালগুলো আজও দর্শনার্থীদের নিয়ে যায় প্রায় চৌদ্দশ বছর আগের সরল জীবনের স্মৃতিতে।

আরও পড়ুন  এআই মিথ্যাচার রোধে স্পেনের ঐতিহাসিক আইন: বড় জরিমানার বিধান

ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়; মুহাম্মদ (সা.) কুবা এলাকায় অবস্থানকালে এই স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন; হিজরতের সময় বনু আনিফ গোত্রের মানুষ তাঁকে সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছিল; সেই স্মৃতি আজও মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

এক সময় অযত্নে পড়ে থাকলেও সৌদি সরকারের ‘ঐতিহাসিক মসজিদ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় মসজিদটিকে পুনর্গঠন করা হয়েছে; মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে চারপাশে আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা সহজে এখানে আসতে পারেন।

বিশেষ করে রাতে কৃত্রিম আলোর ছোঁয়ায় কালো পাথরের দেয়ালে তৈরি হয় অনন্য সৌন্দর্য; শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে এই মসজিদে এক ধরনের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অনুভব করা যায়; হজ বা ওমরাহ পালনে আগত মুসল্লিদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জিয়ারতের স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মদিনার ঐতিহাসিক ‘মসজিদে বনু আনিফ’: পাথরে গাঁথা প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন

আপডেট সময় ০৭:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা-র কুবা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘মসজিদে বনু আনিফ’ আজও বহন করছে ইসলামের প্রাচীন ইতিহাসের নিদর্শন; কুবা মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ঐতিহাসিক হিজরত সড়কের পাশে অবস্থিত এই মসজিদটি দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকলেও বর্তমানে নতুন রূপে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে তৎকালীন ‘বনু আনিফ’ গোত্রের নাম অনুসারে; এই গোত্রটি আরবের বিখ্যাত ‘বালি’ গোত্রের একটি উপশাখা ছিল এবং ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে তারা কুবা এলাকায় বসবাস করত; মসজিদটি ছিল তাদের ইবাদতের প্রধান কেন্দ্র।

মসজিদটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর নির্মাণশৈলী; এটি সম্পূর্ণভাবে মদিনার স্থানীয় কালো ব্যাসাল্ট পাথর দিয়ে নির্মিত; আধুনিক স্থাপত্যের ভিড়ে এই পাথুরে দেয়ালগুলো আজও দর্শনার্থীদের নিয়ে যায় প্রায় চৌদ্দশ বছর আগের সরল জীবনের স্মৃতিতে।

আরও পড়ুন  চূড়ান্ত হলো দুই এল ক্লাসিকো, ঐতিহাসিক ক্যাম্প ন্যুতে ফিরছে রোমাঞ্চ

ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়; মুহাম্মদ (সা.) কুবা এলাকায় অবস্থানকালে এই স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন; হিজরতের সময় বনু আনিফ গোত্রের মানুষ তাঁকে সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছিল; সেই স্মৃতি আজও মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

এক সময় অযত্নে পড়ে থাকলেও সৌদি সরকারের ‘ঐতিহাসিক মসজিদ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় মসজিদটিকে পুনর্গঠন করা হয়েছে; মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে চারপাশে আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা সহজে এখানে আসতে পারেন।

বিশেষ করে রাতে কৃত্রিম আলোর ছোঁয়ায় কালো পাথরের দেয়ালে তৈরি হয় অনন্য সৌন্দর্য; শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে এই মসজিদে এক ধরনের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অনুভব করা যায়; হজ বা ওমরাহ পালনে আগত মুসল্লিদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জিয়ারতের স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।