নির্বাচনে নিয়ে পোস্ট মুছলেন ইলন মাস্ক
- আপডেট সময় ১০:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 25
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর দলটির পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টগুলো মুছে ফেলেছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থনে প্রায় ৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা ব্যয় করার পর তাঁর এই পদক্ষেপ সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও এক্স ব্যবহারকারীদের সূত্রে জানা গেছে, মুছে ফেলা পোস্টগুলোর মধ্যে গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি পিন করা বার্তাও ছিল। ওই পোস্টে মার্কিন ভোটারদের রিপাবলিকান সিনেটরদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মাস্ক।
বুধবার ভোরে টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জেমস টলারিকোর জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ফলাফলে মাস্কের জোরালো সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন পরাজিত হন।
মাস্ক নির্বাচনের পোস্টগুলো মুছে ফেলছেন কি না, এক্স ব্যবহারকারীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘গ্রক’ উত্তর দেয়, ‘সত্যি’। গ্রক জানায়, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর মাস্ক তাঁর ‘আজ লাল মার্কায় ভোট দিন!’ শীর্ষক পোস্টটি সরিয়ে ফেলেছেন।
গত মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সরাসরি খুব বেশি মন্তব্য করেননি মাস্ক। তবে রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁর পোস্টটি গ্রক চ্যাটবটের প্রচার করা কয়েকটি বার্তার মধ্যে ছিল।
বুধবার সকালে নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বেশ কয়েকটি পোস্ট শেয়ার করেন মাস্ক। পরে ব্যঙ্গাত্মক একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মনে হচ্ছে আমার নির্বাচন-নিয়ন্ত্রণকারী স্পেস লেজারগুলো এবার কাজ করেনি।’ এর কিছুক্ষণ আগে তিনি লিখেছিলেন, ‘মহাকাশে ডেটা সেন্টারগুলোর কথা এখন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রক্ষণশীল গোষ্ঠী ও রিপাবলিকান প্রার্থীদের পেছনে অন্তত ৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন মাস্ক। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্যয় আরও বাড়িয়েছিলেন তিনি।
মাস্কের বড় অঙ্কের অনুদানের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হয়েছে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে, রিপাবলিকানদের প্রধান সুপার প্যাক ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ড’ এবং নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও আইওয়ার গুরুত্বপূর্ণ হাউস নির্বাচনে।
এ ছাড়া নিজের রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি ‘আমেরিকা প্যাক’-এ প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন মাস্ক। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো, প্রচারকর্মী নিয়োগ ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কাজে এই অর্থ ব্যবহার করেছে সংগঠনটি।
নির্বাচনী ধাক্কার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন মাস্ক। বুধবার তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৮৭৮ বিলিয়ন ডলার বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল। তবে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দরপতনে এক দিনেই তাঁর সম্পদ ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার কমে যায়।
নতুন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামে। মাস্কের সম্পদের বড় অংশ এসব প্রতিষ্ঠানে থাকা তাঁর শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, সব মিলিয়ে মাস্কের সম্পদ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার কমেছে।






















