যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাঁচ শর্ত
- আপডেট সময় ০২:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 21
দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যুদ্ধ বন্ধে পাঁচ দফা শর্ত দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে শত্রুতার অবসান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। এদিকে কৌশলগত কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা নিয়ে আশাবাদী কাতার।
মঙ্গলবার ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি এসব শর্তের প্রস্তাব দিয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবে পশ্চিম এশিয়ার জন্য একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা চায় তেহরান।
ইরানের এই প্রস্তাব এসেছে কাতারের মধ্যস্থতার উদ্যোগ জোরদার হওয়ার মধ্যে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমঝোতার আশায় কাতার
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার দোহায় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানান, কাতারের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেছে। ওই দিন সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদলটি দোহায় ফিরে আসে।
তিনি বলেন, দুই পক্ষ বর্তমানে কাতারের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। মধ্যস্থতাকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় করছেন।
আল-আনসারি বলেন, “আশার কোনো আলো না থাকলে আলোচনা হতো না।” তবে চুক্তির সম্ভাবনা বেশি, নাকি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা—এ বিষয়ে কাতার কোনো অনুমান করতে চায় না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা কিংবা নৌযানে আক্রমণ—যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি আলোচনায় প্রভাব ফেলবে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করেন আল-আনসারি। এ প্রসঙ্গে কাতারের ট্যাংকার ‘আল-মায়দা’কে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনার নিন্দা জানায় দোহা।
কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা
তেহরান থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক রেসুল সেরদার আতাস জানান, নতুন করে সংঘাত এড়ানোই মধ্যস্থতাকারীদের প্রধান লক্ষ্য। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পক্ষ থেকে ইরানকে পাঠানো একটি চিঠির জবাবে শুক্রবার কাতারের প্রতিনিধিদল ইরান সফর করে। পরদিন ইরানের একটি প্রতিনিধিদল কাতারে যায় বলেও জানান তিনি।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার দেশটির সামরিক বাহিনী কেশম দ্বীপে সীমিত হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলা বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর অংশ নয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আরও দাবি, ইরান একটি মার্কিন বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল। এ সময় হামলায় ব্যবহৃত লঞ্চারটি অকার্যকর হয়ে যায়।






















