ফের প্রধানমন্ত্রী হতে, জাতীয় সরকার চান নেতানিয়াহু
- আপডেট সময় ০৯:২৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 20
ইসরাইলে গত সপ্তাহের নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর ফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিজের নেতৃত্বে আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে বিরোধী শিবিরের নেতারা মঙ্গলবার বৈঠকে বসছেন।
প্রধানমন্ত্রী পদে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো একসঙ্গে আলোচনায় বসছেন বিরোধী নেতারা। আইজেনকটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা মঙ্গলবার সকালে হার্জলিয়ায় বৈঠক করবেন। সেখানে জোট গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
নির্বাচনে আইজেনকটের ব্লক ৪৮টি আসন পেয়েছে। নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন, যার মধ্যে তাঁর লিকুদ পার্টির আসন ২৭টি। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব-প্রধান তালিকাগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সোমবার নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ইহুদি জনগণের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লিকুদকে বৃহত্তম দল এবং তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক অংশীদার এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চান তাঁরা।
আরব-প্রধান তালিকাগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, দলগুলো সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন আরব ইসরাইলি দলগুলোর নেতারা। তবে তাঁরা হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। রা’আম পার্টির নেতা ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য নেতারা এ সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নির্বাচনের আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-প্রধান দুটি তালিকার নেতারা তাঁদের অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে এমন একটি সরকারের পতনের কথা বলেছিলেন, যেটিকে তাঁরা ‘বর্ণবাদী’ বলে মনে করেন।
বিরোধীদের মধ্যে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মতভেদ
আইজেনকটের ব্লকের দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সোমবার পর্যন্ত সব নেতাই তাঁকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরব দলগুলোও আইজেনকটকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া হবে কি না, তা বিরোধী শিবিরের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটস পার্টির বামঘেঁষা নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের পক্ষে। অন্যদিকে ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এর বিরোধিতা করছেন।
আইজেনকটের দল সরাসরি ঘোষণা না দিলেও আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার ধারণাটি নাকচ করেছে বলে মনে হচ্ছে। নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডানপন্থী টুগেদার পার্টির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
ইসরাইলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন দলের সমর্থনের সংখ্যা ও রাজনৈতিক শক্তি বিবেচনায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট সাধারণত সবচেয়ে বেশি সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী মিত্ররা এবং অতি-অর্থোডক্স শাস পার্টি তাঁর নাম সুপারিশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য একটি অতি-অর্থোডক্স দলের অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়।
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। সরকার গঠনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নে তাঁর হাতে সাত দিন সময় রয়েছে, অর্থাৎ ১১ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থী জোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন।
দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের ৬১ জন সদস্য প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় কোনো প্রার্থী মনোনীত করার অনুরোধ জানাতে পারবেন। ১৪ দিনের মধ্যে এমন অনুরোধ না করা হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
সূত্র: এনডিটিভি।






















