ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুরে পুলিশের ধাওয়ায় সড়ক ছাড়লেন পোশাক শ্রমিকেরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলন তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার চেষ্টা, পুলিশের ধাওয়া এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যান।

সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে এক হাজারের বেশি শ্রমিক জড়ো হন। তাঁরা অবরোধের উদ্দেশ্যে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাঁদের ধাওয়া দেয়। এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেন।

এর প্রায় ৩৫ মিনিট পর, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে বিআরটিএ কার্যালয়সংলগ্ন বড় মসজিদের গলি থেকে দুই শতাধিক শ্রমিক জড়ো হন। এ সময় তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ আবারও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ধাওয়া দিলে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন গলিতে চলে যান।

আরও পড়ুন  শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে মন্ত্রীদের ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী

সকাল ১১টার দিকে মিরপুর মডেল থানার সামনে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলছিল। তবে ওই সময় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

সকাল ৮টা থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় পুলিশের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। সেখানে রায়ট কার ও জলকামানও মোতায়েন করা হয়।

মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন বলেন, পোশাকশ্রমিকেরা সোমবারও রাস্তায় নামার চেষ্টা করছেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই পুলিশের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন রোববার প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ওই দিন শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার আন্দোলনকারীরা সড়কে নেমে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশের কঠোর অবস্থানের মুখে তাঁরা সরে যান। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

গত দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পাশাপাশি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর মিরপুরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিরপুরে পুলিশের ধাওয়ায় সড়ক ছাড়লেন পোশাক শ্রমিকেরা

আপডেট সময় ০১:১৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলন তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার চেষ্টা, পুলিশের ধাওয়া এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যান।

সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে এক হাজারের বেশি শ্রমিক জড়ো হন। তাঁরা অবরোধের উদ্দেশ্যে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাঁদের ধাওয়া দেয়। এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেন।

এর প্রায় ৩৫ মিনিট পর, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে বিআরটিএ কার্যালয়সংলগ্ন বড় মসজিদের গলি থেকে দুই শতাধিক শ্রমিক জড়ো হন। এ সময় তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ আবারও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ধাওয়া দিলে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন গলিতে চলে যান।

আরও পড়ুন  সুড়ঙ্গে ড্রোন পাঠিয়েও সন্ধান পাওয়া যায়নি ৯৩ শ্রমিকের

সকাল ১১টার দিকে মিরপুর মডেল থানার সামনে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলছিল। তবে ওই সময় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

সকাল ৮টা থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় পুলিশের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। সেখানে রায়ট কার ও জলকামানও মোতায়েন করা হয়।

মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন বলেন, পোশাকশ্রমিকেরা সোমবারও রাস্তায় নামার চেষ্টা করছেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই পুলিশের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন রোববার প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ওই দিন শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার আন্দোলনকারীরা সড়কে নেমে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশের কঠোর অবস্থানের মুখে তাঁরা সরে যান। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

গত দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পাশাপাশি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর মিরপুরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।