ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে ইলিয়ানা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 26

ছবি: সংগৃহীত

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত রানঅফ নির্বাচনের পর প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপ ও এক্সিট পোলের ফলাফলে তাঁর সুস্পষ্ট এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে।

দেশটির পাঁচটি প্রধান জরিপ সংস্থার সমান্তরাল ভোট গণনার হিসাবে ইয়োতোভা ৫৬ দশমিক ৬ থেকে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পশ্চিমাপন্থী প্রার্থী আন্দ্রে গিউরভের পক্ষে পড়েছে ৩৮ দশমিক ৬ থেকে ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট।

পরাজয় মেনে নিয়ে সোফিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে গিউরভ বলেন, ‘ফলাফল যতই বিস্ময়কর হোক না কেন, আমরা তা মেনে নিচ্ছি।’ নির্বাচনী প্রচার শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ইসিতে তিন দফা অভিযোগ

দীর্ঘদিন ধরে বুলগেরিয়ান সোশ্যালিস্ট পার্টির (বিএসপি) সঙ্গে যুক্ত ইয়োতোভা প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফার ভোটে নিজের সমর্থন বাড়িয়েছেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৩৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে গিউরভের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩১ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

নির্বাচনী প্রচারে ইয়োতোভা ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তাঁর অবস্থান ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। এ বিষয়ে তাঁর নীতির সঙ্গে গিউরভের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বুলগেরিয়ার সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া ২৪০ আসনের জাতীয় সংসদে ১৩১টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

ইয়োতোভা এর আগে রাদেভের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত জানুয়ারিতে রাদেভ পদত্যাগ করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন দিয়েছে প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া।

অন্যদিকে, সাবেক ডেপুটি গভর্নর গিউরভ নির্বাচনী প্রচারে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইয়োতোভা জয়ী হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কার্যকর ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হবে। কারণ, এরই মধ্যে প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নিরাপত্তানীতি নিয়েও দুই প্রার্থীর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। গিউরভ সরকারের ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা এবং ন্যাটো ও ইইউর অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ে ধীরগতির সমালোচনা করেন।

তাঁর দাবি, সরকারের এসব নীতির কারণে বুলগেরিয়ার নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা বলয়ে দেশটি দুর্বল সংযোগে পরিণত হয়েছে।

এক্সিট পোলের ফলাফল অনুযায়ী, ইয়োতোভার জয় নিশ্চিত হলে বুলগেরিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বে প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়ার অবস্থান আরও সুসংহত হবে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নিশ্চিত হবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর।

নিউজটি শেয়ার করুন

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে ইলিয়ানা

আপডেট সময় ১২:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত রানঅফ নির্বাচনের পর প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপ ও এক্সিট পোলের ফলাফলে তাঁর সুস্পষ্ট এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে।

দেশটির পাঁচটি প্রধান জরিপ সংস্থার সমান্তরাল ভোট গণনার হিসাবে ইয়োতোভা ৫৬ দশমিক ৬ থেকে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পশ্চিমাপন্থী প্রার্থী আন্দ্রে গিউরভের পক্ষে পড়েছে ৩৮ দশমিক ৬ থেকে ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট।

পরাজয় মেনে নিয়ে সোফিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে গিউরভ বলেন, ‘ফলাফল যতই বিস্ময়কর হোক না কেন, আমরা তা মেনে নিচ্ছি।’ নির্বাচনী প্রচার শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  সব দলের এক ইচ্ছা, নির্বাচন চান সবাই - দায়িত্বে থাকুক প্রধান উপদেষ্টা

দীর্ঘদিন ধরে বুলগেরিয়ান সোশ্যালিস্ট পার্টির (বিএসপি) সঙ্গে যুক্ত ইয়োতোভা প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফার ভোটে নিজের সমর্থন বাড়িয়েছেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৩৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে গিউরভের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩১ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

নির্বাচনী প্রচারে ইয়োতোভা ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তাঁর অবস্থান ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। এ বিষয়ে তাঁর নীতির সঙ্গে গিউরভের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বুলগেরিয়ার সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া ২৪০ আসনের জাতীয় সংসদে ১৩১টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

ইয়োতোভা এর আগে রাদেভের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত জানুয়ারিতে রাদেভ পদত্যাগ করলে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন দিয়েছে প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া।

অন্যদিকে, সাবেক ডেপুটি গভর্নর গিউরভ নির্বাচনী প্রচারে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইয়োতোভা জয়ী হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কার্যকর ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হবে। কারণ, এরই মধ্যে প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নিরাপত্তানীতি নিয়েও দুই প্রার্থীর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। গিউরভ সরকারের ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা এবং ন্যাটো ও ইইউর অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ে ধীরগতির সমালোচনা করেন।

তাঁর দাবি, সরকারের এসব নীতির কারণে বুলগেরিয়ার নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা বলয়ে দেশটি দুর্বল সংযোগে পরিণত হয়েছে।

এক্সিট পোলের ফলাফল অনুযায়ী, ইয়োতোভার জয় নিশ্চিত হলে বুলগেরিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বে প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়ার অবস্থান আরও সুসংহত হবে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নিশ্চিত হবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর।