ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১ ও ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে এসব এলাকার যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  চলন্ত বাসে হঠাৎ আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

বিক্ষোভ ও সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয় নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা।

দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে শ্রমিকদের একটি অংশ মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় অবস্থান নেয়।

এরপর বেলা ২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার কালশী আদর্শনগর এলাকার ‘২২ তলা’ পোশাক কারখানায়ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা। দুই দিনের এই বিক্ষোভে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

আপডেট সময় ০২:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১ ও ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে এসব এলাকার যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনে কার্যক্রম শুরু রোববার

বিক্ষোভ ও সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয় নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা।

দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে শ্রমিকদের একটি অংশ মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় অবস্থান নেয়।

এরপর বেলা ২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার কালশী আদর্শনগর এলাকার ‘২২ তলা’ পোশাক কারখানায়ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা। দুই দিনের এই বিক্ষোভে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।