ইরানের নিরাপত্তাবাহিনীর বেতন দেওয়ার অর্থ নেই: ট্রাম্প
- আপডেট সময় ১২:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 17
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহী ইরান। দেশটির আর্থিক সংকটের কারণে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থও তেহরানের হাতে নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের চলমান সংঘাতের মধ্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আলোচনা করতে চায়। তারা বারবার আলোচনার কথা বলছে।’
ইরানের আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, দেশটি তাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন পরিশোধ করতে পারছে না। তার ভাষায়, ইরান বেশ বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে রয়েছে।
চলমান সংঘাতকে প্রচলিত কোনো যুদ্ধ নয় বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলকভাবে খুব কম অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
অভিযানের ব্যয়ের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপ থেকে পাওয়া সুবিধা ইরানবিরোধী অভিযানের ব্যয়কেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপ পুনরায় শুরুর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোই তাদের লক্ষ্য।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দোহায় এ আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পুরো আলোচনা চলাকালে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে কাতার। সমঝোতার অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করলেও আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে কয়েকটি পারস্পরিক পদক্ষেপে সম্মত করানোর চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে।
তবে আলোচনায় বসার শর্ত নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ফিরতে হলে ইরানকে প্রথমে তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ছাড় দিতে হবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
অন্যদিকে, আলোচনায় ফেরার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং তেল বিক্রির সুযোগ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে তেহরান।
এ ছাড়া আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের অনুমতি দিতে তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কাতার। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি






















