ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মডেলের
- আপডেট সময় ০২:২৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 16
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। তার অভিযোগ, নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ওই ঘটনা ঘটেছিল। সোমবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একটি প্রতিবেদনে কিউলের বক্তব্যসহ ট্রাম্প ও যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের কথিত সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে কিউল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। এবার তিনি দাবি করেছেন, ওই সময় তাকে ধর্ষণও করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেমোক্র্যাট কমিটির কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কিউল জানান, তার বয়স যখন ২৪ বছর, তখন নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প।
কিউলের দাবি, ট্রাম্প তাকে ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখভাল করব।’
কিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা শেষ হওয়ার পরপরই এপস্টেইন তার কাছে আসেন। এপস্টেইন নিজেকে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে মার-আ-লাগোতে একটি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন তাকে বলেছিলেন, ‘আমরা ডনের সঙ্গে অনেক পার্টির আয়োজন করি।’
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি দাবি করেছেন, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই তাদের বন্ধুত্বের অবসান হয়েছিল। ট্রাম্প এপস্টেইনকে বারবার ‘বিকৃত রুচির লোক’ বলে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি দাবি করেছেন, তিনি এপস্টেইনকে মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি কিউলকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ জানান। কিউলের অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর ট্রাম্প পেছন থেকে তাকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। প্রতিবেদনে তার পোশাক ছিঁড়ে যাওয়া এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে দাগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউল ঘটনাটিকে ‘নৃশংস’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, ঘটনার পর ট্রাম্প তাকে বিছানার কিনারায় বসান এবং ভিসা ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনরায় দেন। পাশাপাশি ঘটনা গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্য হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়েছে, ‘যা-ই ঘটুক, সবকিছু আগের মতো চলতে হবে।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম অভিযোগ করার সময় কিউল ডেইলি মেইলকে বলেছিলেন, ১৯৯৩ সালে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। সে সময় তার অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প তার ঠোঁট ও ঘাড়ে চুমু দিয়েছিলেন, পোশাক ওপরে তোলার চেষ্টা করেছিলেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছিলেন।
তবে ওই সময় কিউল বলেছিলেন, ঘটনা এর চেয়ে বেশি দূর গড়ায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যথাসাধ্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ট্রাম্পকে আগে কথা বলার প্রস্তাব দেন। এরপর ট্রাম্প শান্ত হয়ে যান বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক এই মডেলের ধারণা, তার শারীরিক গড়নের কারণে কথিত হামলাটি আরও গুরুতর পর্যায়ে গড়ায়নি। ডেইলি মেইলের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কিউলের দীর্ঘদিনের এক বন্ধু দাবি করেছেন, ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের কথা কিউল তাকে প্রায় ২০ বছর আগেই জানিয়েছিলেন। বন্ধুটির ভাষ্য অনুযায়ী, এত বছর পরও ঘটনাটি নিয়ে কিউলের বর্ণনায় পরিবর্তন আসেনি।
২০২৪ সালে কিউলের অভিযোগের পর ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। এবারও হোয়াইট হাউস অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক মুখপাত্রের দাবি, এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত করা হয়েছে’।
মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে ‘উন্মত্ত ডেমোক্র্যাটদের মরিয়া চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থন থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরাতেই এসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও চার নারীর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। ওই নারীরাও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প, এপস্টেইন ও অন্যরা প্লাজা হোটেলে আয়োজিত সুন্দরী প্রতিযোগিতাকে অসহায় তরুণী ও কিশোরীদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন বলেন, পাঁচ নারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে থাকা অবস্থায় বা তার উপস্থিতিতে ট্রাম্প তাদের ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়ন করেছেন। অন্য নারীরা জানিয়েছেন, এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েল তাদের ট্রাম্পের কাছে পাচার করার চেষ্টা করেছিলেন।
রাসকিন আরও অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এসব অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন।























