লুলার জয় নিয়ে ট্রাম্পের কারচুপির অভিযোগ
- আপডেট সময় ০২:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 25
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার জয়কে ‘পাতানো’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। একই সঙ্গে লুলার প্রতি ব্যক্তিগত পছন্দের কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোও ভোট গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটিকেও আরেকটি “কারচুপিপূর্ণ” নির্বাচন বলে মনে হয়েছে।’ ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনে যা ঘটেছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে খুবই খারাপ বার্তা দিয়েছে। তার মতে, যেকোনো নির্বাচন অবশ্যই সন্দেহাতীত হতে হবে।
ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রাজিল চালাচ্ছি না, আমি যুক্তরাষ্ট্র চালাচ্ছি।’ একই সঙ্গে লুলাকে পছন্দ করেন বলে জানান তিনি। তবে পুরো ঘটনাকে ‘খারাপ চিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
রোববারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন লুলা। তার এই জয় ট্রাম্প ও তার রাজনৈতিক অনুসারীদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্প সরাসরি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না করলেও ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি বিভিন্ন সময়ে সমর্থনসূচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ শিবিরের অনেকেও বলসোনারোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকেও প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলসোনারো ভোট গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, রোববার রাতে লুলার নিয়োগ দেওয়া ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরিবহনসংকটের কারণে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।
ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পও ‘খুবই অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্ধিত সময়ে ৩৫ হাজারেরও কম ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে, লুলা প্রায় ৪০ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া বলসোনারোর দলও কয়েকটি অঞ্চলে ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।
ফ্লাভিও বলসোনারো তার বাবা জইর বলসোনারোর মতোই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং তা বাতিলের দাবি তুলেছেন। চার বছর আগে নির্বাচনে পরাজয়ের পর জইর বলসোনারোও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন।
লাতিন আমেরিকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী গবেষকদের মতে, ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থা এ অঞ্চলের অন্যতম নিরাপদ ব্যবস্থা। দেশটিতে ১৮ থেকে ৬৯ বছর বয়সীদের ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। খারাপ আবহাওয়া ও পরিবহন সমস্যার কারণে কিছু ভোটার কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারায় উভয় পক্ষই ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেখাতে পেরেছিল।























