বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি, কখন ও কীভাবে দেখবেন
- আপডেট সময় ০৭:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 26
বুধবার (২১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে দেখা যেতে পারে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অতিক্রমের কারণে প্রতিবছর এ উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। আকাশ পরিষ্কার ও পরিবেশ অন্ধকার থাকলে খালি চোখেই উপভোগ করা সম্ভব এই মহাজাগতিক দৃশ্য। অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, উল্কাবৃষ্টি দেখার ক্ষেত্রে আকাশের স্বচ্ছতা, কৃত্রিম আলোর প্রভাব এবং চাঁদের উজ্জ্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চাঁদের আলো বেশি থাকলে তুলনামূলক ক্ষীণ উল্কা দেখতে অসুবিধা হতে পারে।
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ কিংবা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। বরং খোলা জায়গা থেকে আকাশের বিস্তৃত অংশ পর্যবেক্ষণ করলেই উল্কার ছুটে চলা চোখে পড়তে পারে। তবে উল্কা নিয়মিত বিরতিতে দেখা যায় না বলে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণা। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথে এসব মহাজাগতিক কণার বিস্তৃত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। তখন কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সৃষ্ট তীব্র উত্তাপে কণা ও আশপাশের গ্যাস থেকে আলো নির্গত হয়। এর ফলে রাতের আকাশে উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়, যা সাধারণভাবে ‘খসে পড়া তারা’ নামে পরিচিত।
ওরিওন নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে উল্কাগুলোকে ছুটে আসতে দেখা যায় বলে এ উল্কাবৃষ্টির নাম রাখা হয়েছে ওরিওনিড। অন্যদিকে, হ্যালির ধূমকেতু প্রায় ৭৬ বছর পরপর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ২০৬১ সালে ধূমকেতুটিকে আবার পৃথিবী থেকে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
কখন দেখা যাবে সবচেয়ে বেশি উল্কা
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভোর হওয়ার আগের কয়েক ঘণ্টায় আকাশ পরিষ্কার ও অন্ধকার থাকলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।
স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে বাস্তবে কতটি উল্কা দেখা যাবে, তা নির্ভর করবে আকাশের স্বচ্ছতা, আলোকদূষণ এবং চাঁদের আলোর ওপর। চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় অপেক্ষাকৃত ক্ষীণ উল্কাগুলো চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে যেভাবে দেখবেন উল্কাবৃষ্টি
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। তবে দৃশ্যটি ভালোভাবে উপভোগ করতে শহরের উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে খোলা ও অন্ধকার জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বাইরে যাওয়ার পর চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দেওয়া প্রয়োজন। এ সময় উজ্জ্বল মোবাইল ফোনের পর্দা বা অন্য কোনো আলোর দিকে তাকানো এড়িয়ে চললে ক্ষীণ উল্কা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
আকাশের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে তাকিয়ে না থেকে যতটা সম্ভব বিস্তৃত অংশ পর্যবেক্ষণ করা ভালো। কারণ উল্কাগুলো আকাশের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান হতে পারে। এ ছাড়া উল্কা নিয়মিত বিরতিতে দেখা যায় না বলে একটানা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।
ঘণ্টায় প্রায় দেড় লাখ মাইল বেগে ছুটে আসে কণা
হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। প্রচণ্ড গতিতে প্রবেশের সময় সৃষ্ট উত্তাপের ফলে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি হয়, যা রাতের আকাশে উল্কা হিসেবে দৃশ্যমান হয়।
তাই ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ, আলোকদূষণমুক্ত পরিবেশ এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা।
























