আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে: নুরুল হক
- আপডেট সময় ০৫:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 23
সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে কর্মস্থলে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তবে সৌদি আরব নিজেও সংকটের মধ্যে থাকায় এ আলোচনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অভিবাসী কর্মীদের নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংগঠন রামরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, আগে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে গত রোববারের ঘটনার পর থেকে এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত এ ধরনের বিষয়ে আন্তরিক থাকে। যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের মতো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে, যাতে মেয়াদ বাড়িয়ে তাঁরা আবার কর্মসংস্থানে ফিরতে পারেন।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনা চালানো কঠিন, কারণ সৌদি আরবও দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে। তারপরও এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সৌদি আরবে হামলায় আহত ও নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত রোববার রিয়াদে বিমান হামলায় কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত ও আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই রিয়াদে বাংলাদেশের দূতাবাস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের খোঁজখবর নিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে।
নুরুল হক নুর বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। এই দুর্যোগের সময়ে দেশটির কাছে সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত ও আটকে পড়া কর্মীদের সহায়তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী কিছু কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে নিবন্ধিত কোনো কর্মী নিহত হলে সরকারিভাবে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যমুখী, যার অর্ধেকের বেশি সৌদি আরবে যান। যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখন তা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পুনর্গঠনকাজে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব কাজে বাংলাদেশি কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার উদ্যোগ চলছে।
দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, রি-ইন্টিগ্রেশন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোসহ অন্যান্য সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।























