ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

পর্যটনে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চায় সরকার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

ছবি সংগৃহীত

 

পর্যটন খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অবদান বর্তমানের প্রায় ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  ২০২৪-২৫ অর্থবছর: শিল্প খাতে ভর করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৮৬%

মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ চলছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এটি উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি), যৌথ বিনিয়োগ ও লিজের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া দেশের ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে ঘিরে সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাঁরা ভ্রমণে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা পান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকদের আরও ভালো সেবা দিতে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনের প্রয়োজনীয় সব উপাদান থাকলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে এ খাত প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। পর্যটন নীতিমালা ও মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন থিমভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া ভিডিওবার্তা দেন ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ পাইখা আল নুওয়াইস।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

পর্যটনে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চায় সরকার

আপডেট সময় ০১:২০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

 

পর্যটন খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অবদান বর্তমানের প্রায় ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ চলছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এটি উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি), যৌথ বিনিয়োগ ও লিজের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া দেশের ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে ঘিরে সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাঁরা ভ্রমণে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা পান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকদের আরও ভালো সেবা দিতে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনের প্রয়োজনীয় সব উপাদান থাকলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে এ খাত প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। পর্যটন নীতিমালা ও মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন থিমভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া ভিডিওবার্তা দেন ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ পাইখা আল নুওয়াইস।