মাসুদ আজহারকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার বাড়াল পাকিস্তান, ভারত বলছে ভাঁওতাবাজি
- আপডেট সময় ০২:৩১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 26
জইশ-ই-মুহাম্মদের (জেইএম) প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের অর্থ বাড়ানোর পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে ‘ভাঁওতাবাজি’ ও ‘লোক দেখানো’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, এমন ঘোষণা দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের এ ধরনের কৌশল ও লোক দেখানো পদক্ষেপ নতুন নয়। সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ থাকা কোনো রাষ্ট্রের এমন ঘোষণার গুরুত্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, পাকিস্তানকে এ ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
এর আগে সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) মাসুদ আজহারকে ধরিয়ে দিতে সহায়ক তথ্যের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ আরও ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়ায়। একই সঙ্গে তাকে সন্ত্রাসীদের সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত তালিকার নতুন ‘রেড বুকে’ পলাতক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে মাসুদ আজহারকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কারের অর্থ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি।
আগামী অক্টোবরে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে দেশটির পুনরায় এফএটিএফের ‘গ্রে লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত হওয়া ঠেকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এফএটিএফের গ্রে লিস্টে ছিল।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ২০২১ সাল থেকে দাবি করে আসছে, মাসুদ আজহার দেশ ছেড়ে আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছেন। তবে গত সপ্তাহে কাবুলের তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ভারতে একাধিক বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মাসুদ আজহারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সালে ভারতীয় সংসদে হামলা, ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে হামলা, ২০১৬ সালে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের এফআইএর সর্বশেষ ‘রেড বুকে’ সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসী হিসেবে ১ হাজার ৮০৪ জনের নাম রয়েছে। ২০২১ সালের তালিকায় এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩০। অর্থাৎ পাঁচ বছরে তালিকাভুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
নতুন তালিকায় ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে পাকিস্তানি তদন্তকারীদের শনাক্ত করা কয়েকজনের নামও রয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৬৬ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।
হামলার অর্থায়ন, পরিকল্পনা কিংবা হামলাকারীদের ভারতে পৌঁছানোর সামুদ্রিক অভিযানে সহায়তার অভিযোগে তালিকায় ১৯ জনের নাম রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জনের ছবি ও ভূমিকার বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে।























