ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের উত্তাপে বাড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের দাম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 14

ছবি সংগৃহীত

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত বা বিস্তৃত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে বহুল ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫৬ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ০৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮৩ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন  যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইরান আলোচনা ইসলামাবাদে

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি আরও বাড়লে তেল উৎপাদন ও পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদন ও সরবরাহপথগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে। এই আশঙ্কাই বর্তমানে তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।

এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছে।

এর আগে গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে ইরানের লারাক দ্বীপে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সদস্যসহ কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সংঘাতের মাত্রা বাড়লে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও তীব্র হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের উত্তাপে বাড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের দাম

আপডেট সময় ০৯:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত বা বিস্তৃত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে বহুল ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫৬ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ০৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮৩ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন  শনিবার শীর্ষ বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন: বাণিজ্য যুদ্ধ নিরসনে নতুন উদ্যোগ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি আরও বাড়লে তেল উৎপাদন ও পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদন ও সরবরাহপথগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে। এই আশঙ্কাই বর্তমানে তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।

এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছে।

এর আগে গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে ইরানের লারাক দ্বীপে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সদস্যসহ কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সংঘাতের মাত্রা বাড়লে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও তীব্র হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।