কলকাতায় মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার দাবি
- আপডেট সময় ০৬:১৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 16
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার, ৯ আগস্ট উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হালিশহরে এক বিক্ষোভের মধ্যে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, জুতা ও পানির বোতল ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন তিনি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ হেফাজতে এক দলীয় কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগের পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলেন এবং গাড়ির কাচে কাদা ছিটিয়ে দেন।
একপর্যায়ে গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলসহ বিভিন্ন জিনিস ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ।
পরে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ছোড়া ইট-পাটকেল তাঁর শরীরে লাগলে প্রাণহানি ঘটতে পারত। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই কিছু লোক তাঁর গাড়িতে পাথর ছুড়েছে।
মমতা বলেন, গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগতে পারত। জীবনে এমন হামলার মুখে আগে কখনো পড়েননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভার সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি ও রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের সমালোচনা করেন। কল্যাণ ব্যানার্জির অভিযোগ, পুলিশকে ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাঠি নাড়ছেন।
তবে মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলটি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপি জড়িত নয়। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা ওই এলাকায় গিয়েছিলেন, সেটি পুলিশ হেফাজতে এক সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটের মৃত্যুর অভিযোগ। রোববার সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ওই এলাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা।
চাঁদাবাজির অভিযোগে কেওটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত শুক্রবার আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান। পরে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়।
কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার অভিযোগ, তাঁর স্বামীকে হেফাজতে নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেওটকে আটক করেছিল।
অভিষেক বলেন, এফআইআরে নাম না থাকার পরও কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়ার পর তিনি জীবিত ফিরে না এলে বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর মমতার ভাতিজা ও তৃণমূলের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কয়েক মাসের মধ্যেই মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে এলো।
সূত্র: এনডিটিভি

























