নিখোঁজের ৯ মাস পর ৫ পর্বতারোহীর ম*র*দে*হ উদ্ধার
- আপডেট সময় ০৯:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 19
নেপালে গত বছরের তুষারধসে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ পর্বতারোহীর মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় নয় মাস পর শনিবার (৮ আগস্ট) তাদের সন্ধান মেলে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বিদেশি ও দুজন নেপালের নাগরিক।
গৌরিশঙ্কর গ্রামীণ পৌরসভার চেয়ারম্যান বিস্বাস কার্কি জানান, গত বছরের নভেম্বর থেকে ওই পাঁচ পর্বতারোহী নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহের সন্ধান পান।
নিহত বিদেশিদের মধ্যে ইতালি-কানাডার দ্বৈত নাগরিক একজন, জার্মানির একজন এবং ইতালির একজন নাগরিক রয়েছেন বলে জানান তিনি।
গত বছরের নভেম্বর চীনের সীমান্তের কাছে ৫ হাজার ৬৩০ মিটার উচ্চতার ইয়ালুং রি পর্বতের নিচের অংশে তুষারধসের কবলে পড়েন তাঁরা। তুষারপাতের কারণে দীর্ঘ সময় মরদেহগুলো বরফের নিচে চাপা পড়ে ছিল।
বিস্বাস কার্কি বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল তাঁদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে আসছিল। তবে ওই এলাকায় প্রচুর তুষারপাত হওয়ায় মরদেহগুলো খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
মরদেহ উদ্ধারে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
স্থানীয় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনোজ কুমার লামা জানান, শুক্রবার ঘটনাস্থলে একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মরদেহগুলো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নেপালে বিশ্বের সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতের মধ্যে আটটির অবস্থান। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট। এ কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্বতারোহী ও পর্যটক দেশটিতে যান।
তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নেপালে পর্বতারোহণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তুষারধসও পর্বতারোহীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
পর্বতারোহণের বিভিন্ন অভিযানের তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা হিমালয়ান ডেটাবেজের হিসাবে, ১৯৫০ সাল থেকে নেপালের বিভিন্ন পর্বতচূড়ায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে তুষারধসে।
নয় মাস আগে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ পর্বতারোহীর মরদেহের সন্ধান মিললেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো সেগুলো পুরোপুরি সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।






















