কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় শক্তিশালী করতে হবে: ববি হাজ্জাজ
- আপডেট সময় ০৩:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / 14
কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এজন্য শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ ও ‘বন্ধু রেজিস্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার, ২৭ জুলাই সুনামগঞ্জ পিটিআইয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্প আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে একটি ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ গঠন করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি, উপস্থিতি, শৃঙ্খলা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে। এতে বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তা, মসজিদ ও বাজার কমিটির প্রতিনিধি, সমাজের দানশীল ব্যক্তি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি ‘বন্ধু রেজিস্টার’ তৈরি করতে হবে। এই নেটওয়ার্ক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সহায়তা করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে বিদ্যালয় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারবে, সেই বিদ্যালয়ই সবচেয়ে সফল হবে। তার মতে, কমিউনিটি বিদ্যালয়ের পাশে থাকলে বিদ্যালয়ের সম্পদ দখল, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ কিংবা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য আধুনিক, মানবিক ও মূল্যবোধভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসন, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ববি হাজ্জাজ জানান, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষক সংকট নিরসন, পিটিআইয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচির মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার, স্কুল ফিডিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।























