ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত, তেলের দাম নিম্নমুখী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 13

ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত বন্ধ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হামলার পরিবর্তে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তেলের দাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ। এর ফলে একদিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, শুধু টার্গেটে পরিণত হবে মার্কিন-ইসরায়েলি জাহাজ

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৫৪ ডলার বা ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৩৭ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা তিন সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কারণে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব শুধু হরমুজ প্রণালীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর প্রভাব লোহিত সাগর অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালী হয়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল পরিবহনও ব্যাহত হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ সানডে এবং অন্যান্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত সামরিক হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, বর্তমানে প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হওয়ার আশাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা তৈরি করে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ফিরে যাওয়া একটি ইতিবাচক সূচনা হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেনি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে গত রোববার ইয়েমেনের হাউজি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে যায়। যদিও চীনের একটি সুপারট্যাংকার ওই পথ ব্যবহার করে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

এমএসটি মারকুইয়ের বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, তবে তা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কারণ অনেক শিপিং কোম্পানি এখনও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তারা পূর্ণমাত্রায় জাহাজ পরিচালনায় আগ্রহী হবে না।

বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও না বাড়লে এবং কূটনৈতিক আলোচনা এগোতে থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যচাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি ঘটলেও তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা ফিরে আসার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত, তেলের দাম নিম্নমুখী

আপডেট সময় ১১:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত বন্ধ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হামলার পরিবর্তে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তেলের দাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ। এর ফলে একদিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

আরও পড়ুন  এটাই সেরা সুযোগ, সরকারের দখল নিন: ইরানিদের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৫৪ ডলার বা ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৩৭ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা তিন সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কারণে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব শুধু হরমুজ প্রণালীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর প্রভাব লোহিত সাগর অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালী হয়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল পরিবহনও ব্যাহত হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ সানডে এবং অন্যান্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত সামরিক হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, বর্তমানে প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হওয়ার আশাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা তৈরি করে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ফিরে যাওয়া একটি ইতিবাচক সূচনা হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেনি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে গত রোববার ইয়েমেনের হাউজি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে যায়। যদিও চীনের একটি সুপারট্যাংকার ওই পথ ব্যবহার করে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

এমএসটি মারকুইয়ের বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, তবে তা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কারণ অনেক শিপিং কোম্পানি এখনও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তারা পূর্ণমাত্রায় জাহাজ পরিচালনায় আগ্রহী হবে না।

বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও না বাড়লে এবং কূটনৈতিক আলোচনা এগোতে থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যচাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি ঘটলেও তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা ফিরে আসার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।