ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ইনুর সাজা বাড়াতে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে প্রসিকিউশন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / 2

ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। একই সঙ্গে সাজা বৃদ্ধির আবেদনও করা হবে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছেন। এসব অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, প্রসিকিউশন আটটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৪-দলীয় জোটের এক বৈঠকে কারফিউ জারি, ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলন দমনের বিষয়ে ইনু একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিক ফোনালাপেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়েছেন বলে প্রসিকিউশনের দাবি।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনাসহ জড়িতদের গুরুত্বপূর্ণ কলরেকর্ড প্রসিকিউশনের হাতে

তিনি আরও বলেন, ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত এবং অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, সাফাই সাক্ষ্যে দেওয়া লিখিত বক্তব্যেও ইনু কিছু বিষয় স্বীকার করেছিলেন। এরপরও বাকি অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হওয়ায় তারা রায়ে সন্তুষ্ট নন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশনের মতে, ইনুর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। তাদের দাবি, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে এবং তিনটি অভিযোগে দেওয়া সাজা বৃদ্ধির আবেদনও করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইনুর সাজা বাড়াতে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে প্রসিকিউশন

আপডেট সময় ১১:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। একই সঙ্গে সাজা বৃদ্ধির আবেদনও করা হবে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছেন। এসব অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, প্রসিকিউশন আটটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৪-দলীয় জোটের এক বৈঠকে কারফিউ জারি, ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলন দমনের বিষয়ে ইনু একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিক ফোনালাপেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়েছেন বলে প্রসিকিউশনের দাবি।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনাসহ জড়িতদের গুরুত্বপূর্ণ কলরেকর্ড প্রসিকিউশনের হাতে

তিনি আরও বলেন, ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত এবং অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, সাফাই সাক্ষ্যে দেওয়া লিখিত বক্তব্যেও ইনু কিছু বিষয় স্বীকার করেছিলেন। এরপরও বাকি অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হওয়ায় তারা রায়ে সন্তুষ্ট নন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশনের মতে, ইনুর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। তাদের দাবি, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে এবং তিনটি অভিযোগে দেওয়া সাজা বৃদ্ধির আবেদনও করা হবে।