ইউনিয়ন পর্যায়ে বিস্তৃত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি
- আপডেট সময় ০২:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 21
দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারে এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রমে এ নতুন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও এসব কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুদক ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠিত হলে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে সততা, নৈতিকতা ও সুশাসনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক। অতীত অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে নতুন কাঠামো তৈরি করা গেলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দুদকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি সাত সদস্যবিশিষ্ট হবে। এতে একজন সভাপতি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। সমাজের সৎ, সচেতন ও স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
বিদেশি নাগরিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য, আদালতের অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত ব্যক্তি, দেউলিয়া, ঋণখেলাপি বা ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তি এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য নন।
দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে পারলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে পাঁচ শতাধিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কমিটির মাধ্যমে আলোচনা সভা, বিতর্ক, র্যালি, মানববন্ধনসহ নানা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে এ কমিটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারলে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।























