নাঈম হাসানকে হেনস্তা: ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ
- আপডেট সময় ০৯:১২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 29
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সাত দফা সুপারিশও করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদনটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মুহূর্তে প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, তদন্তে খুলশী থানার তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা অপেশাদার ও শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ করেছেন। ঘটনার পর তাদের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
পুলিশ কমিশনার জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ সদস্যদের আচরণগত ও মানবিক বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ, নিয়মিত ব্রিফিং, দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব বৃদ্ধিতে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।
স্বর্ণ চোরাচালানের সন্দেহে একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে নাঈম হাসানের গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে ওই তথ্যের উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য উঠে এসেছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রামে পৌঁছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিযোগে বাসায় ফিরছিলেন নাঈম হাসান। লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তার গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। নাঈম অভিযোগ করেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও মারধর করা হয়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে মুক্তি পান। ঘটনার পর দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।


























