লুটপাট-অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার: জোনায়েদ সাকি
- আপডেট সময় ০৩:০৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / 40
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুর রহিম মোহাম্মদ জোনায়েদ সাকি বলেছেন, অতীতে সরকারি অর্থের লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রম আরও আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। এতে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, নিরীক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা ও করের আওতা বাড়ানো সম্ভব হলে রাজস্ব সংগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সিটা প্রকল্প এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বাজেট এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় ছোট। অথচ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি অপরিহার্য।
সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরীক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের বিকল্প নেই। এ প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, সব ধরনের সরকারি ক্রয় ও দরপত্র কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, নির্ভুল পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরও সক্ষম করা হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। এতে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে।
তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা বিভাগ এমন একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও তথ্যভান্ডার পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর ফলে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে। নির্ধারিত সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে তা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মো. মইনুদ্দিন, আইএমইডির সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























