ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি, শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ১২ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

 

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন এখনো দুই দেশের সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়ায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে দুই কৃষকের মৃত্যু

শনিবার, ১৩ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

বিজিবি জানিয়েছে, বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অসম্মতি জানায়। এ বিষয়ে বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ তদন্তের জন্য সময় চায় এবং পরে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানায়।

ফলে আপাতত ওই ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হচ্ছে।

শূন্যরেখায় অবস্থানকারীদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার একটি পরিবারের তিন সদস্য এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।

ওই ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার, ১২ জুন ভোরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেন।

ওই ব্যক্তিদের দাবি, ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল এবং পরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিজিবির দাবি, বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে নির্ধারিত বৈঠকটি হয়নি। ফলে সীমান্তে অবস্থানরত ১২ জনকে রাতটি খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয়।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছেন, শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সময় চেয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি, শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ১২ জন

আপডেট সময় ০৬:১১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন এখনো দুই দেশের সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়ায় ইবি শিক্ষিকার হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

শনিবার, ১৩ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

বিজিবি জানিয়েছে, বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অসম্মতি জানায়। এ বিষয়ে বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ তদন্তের জন্য সময় চায় এবং পরে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানায়।

ফলে আপাতত ওই ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হচ্ছে।

শূন্যরেখায় অবস্থানকারীদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার একটি পরিবারের তিন সদস্য এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।

ওই ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার, ১২ জুন ভোরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেন।

ওই ব্যক্তিদের দাবি, ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল এবং পরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিজিবির দাবি, বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে নির্ধারিত বৈঠকটি হয়নি। ফলে সীমান্তে অবস্থানরত ১২ জনকে রাতটি খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয়।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছেন, শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সময় চেয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।