ইনডোর নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধানে তরঙ্গ বরাদ্দ পাচ্ছেন মোবাইল অপারেটররা
- আপডেট সময় ০২:০১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 23
দেশের মোবাইল গ্রাহকদের জন্য অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক বা ইনডোর কভারেজ শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। অফিস কিংবা বাসাবাড়ির ভেতরে মোবাইলে কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারে গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এর ফলে ভবনগুলোর ভেতরে নেটওয়ার্কের মান এবং ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোবাইল সংযোগধারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ গ্রাহক শহরে এবং ৬০ শতাংশ গ্রাহক উপশহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করেন। শহরের তুলনায় প্রান্তিক পর্যায়ে নেটওয়ার্কের মান অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং অনেক ক্ষেত্রে ঘরের ভেতরে কথা বলার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে অপারেটরদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তরঙ্গ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
জানা গেছে, গ্রামীণফোনকে ইতিপূর্বে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়ার পর এবার ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডে তরঙ্গের জন্য আবেদন করেছে রবি ও বাংলালিংক। বর্তমানে বিটিআরসির কাছে ৮ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ ‘ই-জিএসএম’ তরঙ্গ বরাদ্দযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্য থেকে রবি ও বাংলালিংক প্রত্যেকে ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ করে তরঙ্গ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তরঙ্গ গ্রহণের আগে পার্শ্ববর্তী দেশের ব্যবহৃত তরঙ্গের সাথে কোনো ধরনের কারিগরি জটিলতা তৈরি হয় কি না, তা যাচাই করতে চায় অপারেটর দুটি।
কারিগরি যাচাইয়ের জন্য বিটিআরসি রবি ও বাংলালিংককে পরীক্ষামূলকভাবে এক মাসের জন্য ৮ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডের কার্যকারিতা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দেবে দুই অপারেটর। রবির কর্মকর্তাদের দাবি, এই তরঙ্গ ব্যবহারের ফলে গ্রাহকরা ইনডোর ডাটা নেটওয়ার্কের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন এবং তারা এটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ প্রস্তুত রয়েছেন।
বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক বরাদ্দের ফলাফল পর্যালোচনার পর তারা তরঙ্গ ক্রয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশে চারটি অপারেটর ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে। নতুন এই তরঙ্গ বরাদ্দ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে গ্রাহকসেবার মান উন্নত হবে বলে মনে করছে বিটিআরসি।






















