ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে অচল ঢাকা, কেন্দ্রে পৌঁছাতেও হিমশিম শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় ১২:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
আজ থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার প্রথম দিনেই রাজধানীর শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষ করল তীব্র যানজট। বিশেষ করে সকালের দিকে ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, যা দিনভর সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্তানদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে অভিভাবকরা বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানীর ধানমন্ডি, ফার্মগেট, মিরপুর, উত্তরা এবং মতিঝিল সংলগ্ন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর আশপাশের এলাকায় যানজট সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করে। অনেক পরীক্ষার্থীকে যানজটের কারণে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে বা রিকশায় করে কেন্দ্রের দিকে ছুটতে দেখা যায়।
অফিসগামী যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, সাধারণ সময়ের তুলনায় আজ গন্তব্যে পৌঁছাতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। বিশেষ করে মোড়গুলোতে যানবাহনের জটলা থাকায় বিকল্প পথেও স্বস্তি মিলছে না। ভুক্তভোগীদের মতে, পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে এলোপাথাড়ি গাড়ি পার্কিং এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে।
এদিকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তারা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, “পরীক্ষার দিনগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে যদি অভিভাবকরা গণপরিবহন ব্যবহারে সচেতন হন, তবে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।”
“কথা হয় শাহজাহানপুরে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. খালেকুজ্জামানের সাথে। তিনি ‘খবরের কথা’কে জানান, ব্যক্তিগত গাড়ির কারণে শুধু যে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে এমন নয়, অতিরিক্ত গাড়ির চাপে গাড়ি রেখে সময়মতো উপস্থিত হওয়ার জন্য অনেক শিক্ষার্থীকে পায়ে হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হয়েছে। আরও বড় সমস্যা হচ্ছে, সন্তানদের নামিয়ে দিয়ে অভিভাবকরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় গাড়ি রেখে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকেন।”
নগরবাসী এবং সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যানজট নিরসনে পরীক্ষাকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আগামী পরীক্ষাগুলোর দিনগুলোতেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


























