ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরুর দুধের পুষ্টি ও শিশুর নিরাপত্তা: মায়েদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য টিপস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 20

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ ও ভারতসহ এই উপমাহদেশের পরিবারগুলোতে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানোর দীর্ঘদিনের প্রচলন থাকলেও, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা। গরুর দুধে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও খনিজ উপাদান নবজাতকের অপরিণত পাকস্থলী ও কিডনির জন্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও ল্যাক্টোফেরিন নামের প্রোটিন থাকে যা হাড়ের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর। দুধে থাকা কেসিন ও হোয়ি প্রোটিনের সুষম উপস্থিতির কারণে এর পুষ্টিগুণ অন্যান্য খাবারের তুলনায় শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে। তবে এত গুণ থাকা সত্ত্বেও এক বছরের নিচের শিশুদের জন্য এটি নিষিদ্ধ করার পেছনে প্রধান কারণ হলো হজম প্রক্রিয়া। গরুর দুধে প্রোটিনের পরিমাণ স্তনদুগ্ধের চেয়ে অনেক বেশি থাকে, যা ছোট শিশুদের হজম করা কঠিন।

এছাড়া গরুর দুধে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা মায়ের দুধের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। এই অতিরিক্ত খনিজ উপাদান শিশুদের কোমল কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকরা আরও জানান, গরুর দুধে থাকা আয়রন শিশুদের শরীর সহজে শোষণ করতে পারে না, ফলে এক বছরের আগে এটি নিয়মিত খাওয়ালে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার ঝুঁকি প্রবল হয়। অনেক ক্ষেত্রে ‘কাউ মিল্ক প্রোটিন অ্যালার্জি’র কারণে শিশুদের বমি ও পেটের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তবে সাত থেকে আট মাস বয়সের পর শিশুদের সরাসরি দুধ না দিয়ে অল্প পরিমাণে ছানা বা দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবার দেওয়া যেতে পারে। শিশুর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাকে গরুর দুধ দেওয়া শুরু করা নিরাপদ। শুরুতে দুধের সঙ্গে পানি মিশিয়ে খাওয়ানো উচিত এবং অন্তত দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ শেষে কোনো সমস্যা না হলে স্বাভাবিক দুধ দেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও দুধের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটারের বেশি দুধ দেওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত দুধ খেলে শিশুর পেট ভরে থাকে, যা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে আয়রনের ঘাটতি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গরুর দুধের পুষ্টি ও শিশুর নিরাপত্তা: মায়েদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য টিপস

আপডেট সময় ১০:৫৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

বাংলাদেশ ও ভারতসহ এই উপমাহদেশের পরিবারগুলোতে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানোর দীর্ঘদিনের প্রচলন থাকলেও, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা। গরুর দুধে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও খনিজ উপাদান নবজাতকের অপরিণত পাকস্থলী ও কিডনির জন্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও ল্যাক্টোফেরিন নামের প্রোটিন থাকে যা হাড়ের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর। দুধে থাকা কেসিন ও হোয়ি প্রোটিনের সুষম উপস্থিতির কারণে এর পুষ্টিগুণ অন্যান্য খাবারের তুলনায় শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে। তবে এত গুণ থাকা সত্ত্বেও এক বছরের নিচের শিশুদের জন্য এটি নিষিদ্ধ করার পেছনে প্রধান কারণ হলো হজম প্রক্রিয়া। গরুর দুধে প্রোটিনের পরিমাণ স্তনদুগ্ধের চেয়ে অনেক বেশি থাকে, যা ছোট শিশুদের হজম করা কঠিন।

এছাড়া গরুর দুধে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা মায়ের দুধের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। এই অতিরিক্ত খনিজ উপাদান শিশুদের কোমল কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকরা আরও জানান, গরুর দুধে থাকা আয়রন শিশুদের শরীর সহজে শোষণ করতে পারে না, ফলে এক বছরের আগে এটি নিয়মিত খাওয়ালে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার ঝুঁকি প্রবল হয়। অনেক ক্ষেত্রে ‘কাউ মিল্ক প্রোটিন অ্যালার্জি’র কারণে শিশুদের বমি ও পেটের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তবে সাত থেকে আট মাস বয়সের পর শিশুদের সরাসরি দুধ না দিয়ে অল্প পরিমাণে ছানা বা দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবার দেওয়া যেতে পারে। শিশুর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাকে গরুর দুধ দেওয়া শুরু করা নিরাপদ। শুরুতে দুধের সঙ্গে পানি মিশিয়ে খাওয়ানো উচিত এবং অন্তত দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ শেষে কোনো সমস্যা না হলে স্বাভাবিক দুধ দেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও দুধের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটারের বেশি দুধ দেওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত দুধ খেলে শিশুর পেট ভরে থাকে, যা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে আয়রনের ঘাটতি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।