ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নাতনি জাইমা রহমানের হাতে খালেদা জিয়ার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ সেন্সর বোর্ডের কাঁচি: ৬৩টি দৃশ্য বাদ দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘ভূত বাংলা’ আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট: নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য আন্দোরা পাহাড়, পর্যটন আর শান্ত জীবনের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে স্বামী আটক সাবেক ও বর্তমান অধিনায়কদের জন্য এবার তামিমের ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ শুক্রবার রাতে ঢাকা ছাড়ছে প্রথম হজ ফ্লাইট: উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আজ আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বিএসএফ ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন: এক জওয়ান নিহত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী

কূটনৈতিক টানাপোড়েনে গ্রে-জোনে মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ নাকি শান্তি?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। এই আলোচনা যদি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে সরাসরি সংঘাত থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে অঞ্চলটি এমন এক ‘গ্রে-জোন’ বা ধোঁয়াটে পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে সামরিক প্রস্তুতির মহড়াও চলছে।

১. কৌশলগত বিরতি ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি
বর্তমানে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে অনেকেই স্থায়ী সমাধানের বদলে ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে দেখছেন। শর্তের অস্পষ্টতা ও চরম অবিশ্বাসের কারণে এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। মূলত দুই পক্ষই এই সময়কে ব্যবহার করছে সামরিক অবস্থান পুনর্গঠনের জন্য। আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি সামরিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আগ্রাসন, ২০ মাসে ৩৫ হাজার হামলা : রিপোর্ট

২. ‘ছায়াযুদ্ধ’ ও নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা
পুরোদমে যুদ্ধে না জড়িয়ে একে অপরের ওপর সীমিত সামরিক চাপ বজায় রাখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে ইরাক, লোহিত সাগর বা ইয়েমেনে সক্রিয় প্রক্সি শক্তি বা ছায়া বাহিনীর মাধ্যমে তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার’ বড় ঝুঁকি হলো—যেকোনো ছোট ভুল হিসাব পুরো অঞ্চলকে একটি বড় আকারের অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

৩. পর্দার আড়ালে কূটনীতি
প্রকাশ্য আলোচনা ব্যর্থ হলেও কাতার, ওমান বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নেপথ্যে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা এবং ইরানের ১০ দফা দাবির মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দুরূহ। কোনো বড় ধরনের আপস ছাড়া দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৪. দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধ ও হরমুজ প্রণালির সংকট
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদী নৌ অবরোধের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করা এবং চীনের জ্বালানি সরবরাহে আঘাত হানা। তবে এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে সরাসরি ইরানি হামলার ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে যুদ্ধ ও শান্তি একই সমান্তরালে চলছে। দেশ দুটি একদিকে যেমন সামরিক শক্তির শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, তেমনি আলোচনার পথটিও পুরোপুরি রুদ্ধ করেনি। এই কাঠামোগত অস্থিতিশীলতাই হয়তো আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন স্বাভাবিকতা বা ‘নিউ নরমাল’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কূটনৈতিক টানাপোড়েনে গ্রে-জোনে মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ নাকি শান্তি?

আপডেট সময় ০২:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

 

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। এই আলোচনা যদি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে সরাসরি সংঘাত থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে অঞ্চলটি এমন এক ‘গ্রে-জোন’ বা ধোঁয়াটে পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে সামরিক প্রস্তুতির মহড়াও চলছে।

১. কৌশলগত বিরতি ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি
বর্তমানে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে অনেকেই স্থায়ী সমাধানের বদলে ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে দেখছেন। শর্তের অস্পষ্টতা ও চরম অবিশ্বাসের কারণে এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। মূলত দুই পক্ষই এই সময়কে ব্যবহার করছে সামরিক অবস্থান পুনর্গঠনের জন্য। আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি সামরিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা: সিরীয় প্রেসিডেন্টের কঠোর সমালোচনা"

২. ‘ছায়াযুদ্ধ’ ও নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা
পুরোদমে যুদ্ধে না জড়িয়ে একে অপরের ওপর সীমিত সামরিক চাপ বজায় রাখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে ইরাক, লোহিত সাগর বা ইয়েমেনে সক্রিয় প্রক্সি শক্তি বা ছায়া বাহিনীর মাধ্যমে তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার’ বড় ঝুঁকি হলো—যেকোনো ছোট ভুল হিসাব পুরো অঞ্চলকে একটি বড় আকারের অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

৩. পর্দার আড়ালে কূটনীতি
প্রকাশ্য আলোচনা ব্যর্থ হলেও কাতার, ওমান বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নেপথ্যে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা এবং ইরানের ১০ দফা দাবির মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দুরূহ। কোনো বড় ধরনের আপস ছাড়া দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৪. দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধ ও হরমুজ প্রণালির সংকট
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদী নৌ অবরোধের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করা এবং চীনের জ্বালানি সরবরাহে আঘাত হানা। তবে এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে সরাসরি ইরানি হামলার ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে যুদ্ধ ও শান্তি একই সমান্তরালে চলছে। দেশ দুটি একদিকে যেমন সামরিক শক্তির শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, তেমনি আলোচনার পথটিও পুরোপুরি রুদ্ধ করেনি। এই কাঠামোগত অস্থিতিশীলতাই হয়তো আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন স্বাভাবিকতা বা ‘নিউ নরমাল’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।