ইরান যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম কমবে , শি জিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি
- আপডেট সময় ০৭:৩৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 16
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামের ওপর, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। ট্রাম্পের মতে, জ্বালানি খাতের এই স্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হবে।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান এই অস্থিরতা নিরসন হলে গ্যাসের দাম ‘ব্যাপকভাবে’ হ্রাস পাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত হলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও কমবে, যার সুফল ভোগ করবে মার্কিন নাগরিকসহ সারা বিশ্বের মানুষ। ট্রাম্প এই পরিবর্তনকে তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অস্ত্র সহায়তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি জানান, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি শি জিনপিংকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তিনি বেইজিংকে তেহরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বা সরবরাহ বন্ধ করার জন্য সরাসরি অনুরোধ জানান।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শি জিনপিং তার চিঠির জবাবে ইরানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “শি জিনপিং আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে তারা ইরানকে কোনো ধরনের সমরাস্ত্র দিচ্ছে না।” দুই নেতার এই পত্রালাপ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে বরাবরের মতোই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানকে যদি কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা পুরো পৃথিবীর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তার ভাষায়, “ইরান পরমাণু শক্তিধর হলে সারা বিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে।”
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন যে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিশ্বশান্তির পথে প্রধান অন্তরায়। তিনি মনে করেন, এই অঞ্চলকে বিপদমুক্ত করতে হলে ইরানকে অবশ্যই যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে। এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, তিনি ইরান যুদ্ধের অবসানের মধ্য দিয়ে একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে এলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দূর হবে।
তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পূর্বাভাস মূলত আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটারদের আশ্বস্ত করার একটি কৌশল হতে পারে। যদিও ট্রাম্প একে একটি বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা হিসেবেই দাবি করছেন।
এদিকে, হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কঠোর অবস্থান থেকে পিছু হটবে না। তারা একইসঙ্গে কূটনৈতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অবরোধের নীতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
পরিশেষে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই এই সংকটের একটি সমাধান আসবে এবং পৃথিবী আবার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হবে। তবে তার এই আশাবাদের সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার ব্যবধান কতটুকু, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েই গেছে।
























