শান্তি আলোচনা থেকে ইরান কি হার না মানার বার্তা দিতে চায়
- আপডেট সময় ০৯:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
- / 35
চুক্তি ভেস্তে যাওয়া বা চুক্তিতে সম্মত না হওয়ার বিষয়ে বিস্ময় বা আবেগ প্রকাশ করার জাতি নয় ইরান। ইরান এই মূহুর্তে ১০ টি শর্ত হৃদয়ে ধারণ করেছে যা তাদের শৌর্য ও বীরত্বের কবচ হিসেবে চিহ্নিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাহলে কি ইরান এই যুদ্ধে ভীত না! বলা যায় না ইরান যুদ্ধের শেষ দেখতে চাই। ইরানের যে শিশু আজ জন্মাবে সে পৃথিবীতে বুঝতে শেখার সময় প্রকৃতির নিয়মে জেনে যাবে আমেরিকা ইরানে যেকোন সময় হামলা করবে আর ইরান জাতি দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কারণ বিগত কয়েক দশকে ইরানের নাগরিকরা প্রতিনিয়ত তাই ভেবে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিজ্ঞ এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন ইরান ভূপ্রকৃতি ও জন্মগতভাবে একরোখা। তারা মায়ের কোল থেকেই জেনে এসেছে কোনো না কোনো সময় আমেরিকা ইরানে হামলা করবে। এই জানা থেকেই তারা সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। ফলে আমেরিকার ২২ শে মার্চের হামলার পর মনে হতেই পারে খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হয়েছে মানে ইরানের সরকার ব্যবস্থার পতন হবে এবং হতেই হবে। কিন্তু সরকার পরিবর্তন তো দূরের কথা ইরান চল্লিশ দিনের যুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে অনেকের কাছে তা বিস্ময়কর। বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার যে বিপর্যয় তাতে খোদ আমেরিকার নাগরিকদের অনেকেই নিজেদের বিরক্তি ও অস্বস্তির কথা বলেছেন।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতির যে আলোচনা পাকিস্তানে শুরু হয়েছিল তাতে অনেকের মতো মনে হতেই পারে যায় হোক যে যতো পারে শর্তে ছাড় দিক। আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসু হয়ে পৃথিবী শান্ত হোক। হয়তো অনেকেই নচিকেতার গান সার্চ দিয়ে কয়েকবার শুনে নিয়ে ছিলেন।
“এক দিন ঝড় থেমে যাবে
পৃথিবী আবার শান্ত হবে
বসতি আবার উঠবে গড়ে
আকাশ আলোয় উঠবে ভরে
জীর্ন মত বাদ সব ইতিহাস হবে
পৃথিবী আবার শান্ত হবে”….
সাধারণ মনের আকাঙ্ক্ষা ও গানের মতো আমেরিকা ইরানের আলোচনা সুখকর হলো না। তবে এখনো আশা জিইয়ে রাখা যায়। সুন্দর সমাপ্তি হৃদয়ে জাগ্রত থাকুক।
কি হবে যদি কেউ কোনো শর্ত না মানে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতির সময় পার হয়ে যায়! না আপাতত কয়েকদিন এসব না ভাবাই শ্রেয়। ভাবতে গেলেই মনে হবে, আবার হামলা ,প্রতিরোধ , হরমুজ প্রণালী , তৈল গ্যাসের সংকট, শেয়ার বাজারে প্রভাব আর্থ সামাজিক অবস্থার নিম্নমুখী গ্রাফ আর আমাদের ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের গল্প । জীবন কি তাহলে স্থবির হয়ে যাবে। আমরা কল্যাণকর আগামীর স্বপ্ন দেখবো না। ঐ যে বললাম কিছু আশা হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখা শ্রেয়। এমনও তো হতে পারে পাকিস্তান বা পাকিস্তানের মতো কেউ এগিয়ে এলো প্রগাঢ় শান্তির হৃদয় বিছিয়ে দিয়ে একই শামিয়ানায় মিলিত হওয়ার উদাত্ত আহ্বানে – যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়লো আরও দুই মাস। মিটিং এর পর ,আলোচনার পর আলোচনা , শান্তির পায়রা উড়ানোর জন্য বক্তব্যের পর বক্তব্যে মাইক ভেঙে পড়বে। তারপর মিলিত হবে একই প্রাণে শান্তির বার্তা।
ইরানের জন্য আজ পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের। ঐ যে আলোকপাত করা হয়েছে ইরান জাতি হলো একরোখা ফোকাস্ট। তারা হয়তো বুঝে গেছে ফেরার তো পথ নেই সাঁকো। যে যুদ্ধ অনাকাঙ্ক্ষিত তাদের ভাষায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তার শেষটা তারা দেখতে চাই। এজন্য আমেরিকার মতো পরাশক্তির সাথে মোকাবিলার জন্য এ পর্যন্ত যুদ্ধে তারা তাদের দিক থেকে নিশ্চয়ই মানদণ্ড তৈরি করেছে। কাজী নজরুল এক লেখায় উল্লেখ করেছিলেন , তোমাকে রামে মারলেও মারবে ,রাবনে মারলেও মারবে- তাই মরার সময় একটু হাতাহাতি করে মরো যাতে মরার সুনামটা থাকে । ইরানিরা হয়তো নজরুলের এই লাইনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত। পাকিস্তানে আজ যে মনোভাব ইরানিরা দেখালো তাতে মনোবল হলো ইরানিরা আর হারবে না , হাতাহাতি করার দৃঢ় সংকল্প বাহুতে জাগ্রত।
রিয়াদ মোস্তফা
নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান
খবরের কথা
























