ইরানকে অস্ত্র দিলেই ৫০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
- আপডেট সময় ১১:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 35
তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে তিনি এক ঘোষণায় জানান, বিশ্বের যেসব দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করবে, যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশগুলো থেকে আমদানি করা সমস্ত পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। মূলত ইরানের সামরিক শক্তি খর্ব করতেই ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরানকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ট্রাম্পের এই বার্তা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “যে দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করবে, তাদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর অবিলম্বে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম বা ছাড় বিবেচনা করা হবে না।” যদিও ট্রাম্প তার এই বার্তায় সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলোর দিকে ইঙ্গিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘ সময় ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, বেইজিং ও মস্কো ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন প্রযুক্তি সরবরাহ করে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে, তবে দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় পাচ্ছেন ব্যবসায়ী মহল।
এদিকে, বেইজিং ও মস্কো বরাবরই ইরানের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহের খবর অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন এক অর্থনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা দেখছে কূটনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক মিত্রদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেশটিকে একঘরে করতে চায়। ৫০ শতাংশ শুল্কের এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ইরানকে অস্ত্র সহায়তা থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হবে বলে হোয়াইট হাউস মনে করছে।























