ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে ‘ডুমসডে প্লেন’: ইরানের ওপর কি তবে পরমাণু হামলার ছায়া

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 192

ছবি: সংগৃহীত

 

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা গেছে ‘ডুমসডে প্লেন’ বা প্রলয়ঙ্করী বিমান হিসেবে পরিচিত বিশেষ সামরিক যান। সোমবার (৬ এপ্রিল) নেব্রাস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির ওপর বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানটির চক্কর দেওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এমন এক সময়ে এই বিশেষ বিমানের উড্ডয়ন লক্ষ্য করা গেল, যখন ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম শেষের পথে।

ফ্লাইট ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানটি সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে নেব্রাস্কার অফুট বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এবং অবতরণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়। মূলত পারমাণবিক যুদ্ধের সময় জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সুরক্ষা এবং সরকারের কার্যক্রম সচল রাখতে এই বিমানটি তৈরি করা হয়েছে। ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের এই আকাশস্থ সদর দপ্তরটি যেকোনো প্রলয়ঙ্করী পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম।

আরও পড়ুন  লক্ষ্মীপুরে নৌপুলিশের ওপর হামলা, ১৩ জেলে আটক

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় সায় দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “পুরো দেশটাকে এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যেতে পারে এবং সেই রাতটা হতে পারে আগামীকাল রাত।”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহরে বর্তমানে চারটি ই-৪বি বিমান রয়েছে। এই বিমানটিকে একটি ‘উড়ন্ত পেন্টাগন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা পারমাণবিক বিস্ফোরণ, সাইবার আক্রমণ এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস প্রতিরোধে সক্ষম। ১৮টি বাঙ্ক, কনফারেন্স রুম এবং কমান্ড সেন্টার সমৃদ্ধ এই বিমানে ১১২ জন ক্রু অবস্থান করতে পারেন। এর রে ডোমে থাকা ৬৭টি স্যাটেলাইট ডিশ ও অ্যান্টেনার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মহড়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দেওয়ার আগেও এমন বিমানের তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্পের কঠোর আল্টিমেটাম এবং ডুমসডে প্লেনের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদি কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই ‘প্রলয়ঙ্করী বিমান’ মোতায়েনের বিষয়টি বিশ্বশান্তির জন্য বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস হতে পারে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে ‘ডুমসডে প্লেন’: ইরানের ওপর কি তবে পরমাণু হামলার ছায়া

আপডেট সময় ১০:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

 

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা গেছে ‘ডুমসডে প্লেন’ বা প্রলয়ঙ্করী বিমান হিসেবে পরিচিত বিশেষ সামরিক যান। সোমবার (৬ এপ্রিল) নেব্রাস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির ওপর বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানটির চক্কর দেওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এমন এক সময়ে এই বিশেষ বিমানের উড্ডয়ন লক্ষ্য করা গেল, যখন ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম শেষের পথে।

ফ্লাইট ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানটি সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে নেব্রাস্কার অফুট বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এবং অবতরণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়। মূলত পারমাণবিক যুদ্ধের সময় জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সুরক্ষা এবং সরকারের কার্যক্রম সচল রাখতে এই বিমানটি তৈরি করা হয়েছে। ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের এই আকাশস্থ সদর দপ্তরটি যেকোনো প্রলয়ঙ্করী পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম।

আরও পড়ুন  বোমা হামলার হুমকি: রোমে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট জরুরি অবতরণ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় সায় দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “পুরো দেশটাকে এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যেতে পারে এবং সেই রাতটা হতে পারে আগামীকাল রাত।”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহরে বর্তমানে চারটি ই-৪বি বিমান রয়েছে। এই বিমানটিকে একটি ‘উড়ন্ত পেন্টাগন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা পারমাণবিক বিস্ফোরণ, সাইবার আক্রমণ এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস প্রতিরোধে সক্ষম। ১৮টি বাঙ্ক, কনফারেন্স রুম এবং কমান্ড সেন্টার সমৃদ্ধ এই বিমানে ১১২ জন ক্রু অবস্থান করতে পারেন। এর রে ডোমে থাকা ৬৭টি স্যাটেলাইট ডিশ ও অ্যান্টেনার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মহড়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দেওয়ার আগেও এমন বিমানের তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্পের কঠোর আল্টিমেটাম এবং ডুমসডে প্লেনের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদি কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই ‘প্রলয়ঙ্করী বিমান’ মোতায়েনের বিষয়টি বিশ্বশান্তির জন্য বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস হতে পারে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট।