‘তেল দখলই আমার লক্ষ্য’: ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মোড়ে
- আপডেট সময় ১১:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / 46
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কৌশলগত প্রয়োজনে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন এবং দেশটির তেল সম্পদ ‘দখল’ করতে পারেন।
সম্প্রতি ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার পছন্দ হলো তেল দখল করা।’ এ সময় তিনি চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে যেভাবে নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে, ইরানেও তেমনটি করা সম্ভব। এই মন্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। এশীয় বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি হোয়াইট হাউস গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই এই দ্বীপে আঘাত হানতে সক্ষম। নিজ দেশের সমালোচকদের ‘বোকা’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন যে, তিনি মার্কিন স্বার্থেই ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান।
এদিকে পেন্টাগন ইরানে দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। গত শুক্রবারই ওই অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি শোধন কেন্দ্রে হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাকে তারা ‘ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আঞ্চলিক এই অস্থিরতার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানিয়েছেন, তাঁরা ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।























