যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণ: ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে রাজপথে ৮০ লাখ মানুষ
- আপডেট সময় ১১:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 37
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ বিস্তারের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। প্রেসিডেন্টের স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘নো কিংস’বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের দাবি, গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত আন্দোলনের তুলনায় এবার আরও ১০ লাখ বেশি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ওপর নিজের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী এবং অনেকটা ‘রাজতান্ত্রিক’ আচরণের শামিল।
বিক্ষোভের মূল বার্তাটি ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার— “আমেরিকায় কোনো রাজার জায়গা নেই।” অর্থাৎ, কোনো একক ব্যক্তির হাতে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টাকে মার্কিনিরা মেনে নেবে না।
বিক্ষোভকারীরা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু বিতর্কিত নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন:
প্রশাসন ও বিচার বিভাগ: বিচারবিভাগকে কুক্ষিগত করে নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা।
অভিবাসন নীতি: গণহারে প্রবাসীদের আটক করা এবং জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা।
মানবাধিকার ও পরিবেশ: গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা এবং পরিবেশ রক্ষার আন্তর্জাতিক নীতিগুলো থেকে সরে আসা।
শনিবার সকাল থেকেই ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ছোট-বড় সব শহরে মানুষের ঢল নামে। হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘নো কিংস’ স্লোগান লিখে ট্রাম্পের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা।
বিগত বছরগুলোতে হওয়া বিভিন্ন আন্দোলনের তুলনায় এবারের জনস্রোতকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই এই বিশাল বিক্ষোভ প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।




















