ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফোনের ব্যাটারি চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে? বন্ধ করুন এই ৫ ফিচার জ্বালানির বিশ্ববাজারে অস্থিরতা: দুই জাহাজ ডিজেলে ৩৩০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় ২৫ মার্চের গণহত্যা: ইতিহাস জানাতে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোবাইলে কথা বলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাল চালক, খাদে অটোরিকশা—প্রাণ গেল যাত্রীর, আহত ৫ সংঘাতের মাঝে কূটনৈতিক সুর: বিপাকে পড়ে যুদ্ধ থামানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলার, কথা রাখলেন না ট্রাম্প ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অন্তত ৩০ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরাকে ১৫ জন নিহত,আহত অন্তত ৩০ জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে একমত সংসদীয় কমিটি অপরাধ দমনে চালু হচ্ছে ‘হটলাইন’: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

সংঘাতের মাঝে কূটনৈতিক সুর: বিপাকে পড়ে যুদ্ধ থামানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • / 24

মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হুমকি থেকে সরে এসে আলোচনার কথা বললেও বাস্তব পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপের দাবি, অন্যদিকে ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা—সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

হুমকি থেকে আলোচনায়: ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন
প্রথমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন এবং তা না মানলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকিও দেন।
তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাময়িকভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিত রাখার বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছে।

ইরানের অস্বীকৃতি, পাল্টা হামলা
ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়নি।
এরপরই ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তেল আবিবসহ কয়েকটি শহরে সাইরেন বেজে ওঠে এবং কিছু স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। একটি বহুতল ভবনে আঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে, যদিও ক্ষতির প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও পড়ুন  আন্তর্জাতিক আদালতের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতা
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, কয়েকটি ভবনে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

একাধিক ফ্রন্টে বিস্তৃত সংঘাত
সংঘাত শুধু ইসরায়েল-ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। লেবানন থেকেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন—এ হামলার খবর পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পাল্টা হামলায় কেঁপে উঠেছে ইরান
ইরানের তেহরান, ইসফাহান ও শিরাজসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যে উল্লেখ আছে, কিছু শহরে হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষতি
সংঘাত শুরুর পর থেকে বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। লেবানন, ইরাক, ইসরায়েলসহ একাধিক দেশেও প্রাণহানির তথ্য এসেছে।
ইরানের ত্রাণ সংস্থার তথ্যমতে, বহু স্থাপনা, অ্যাম্বুলেন্স ও শিক্ষা-চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার ভবনে আঘাত লেগেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা
সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ বাড়ছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্ভাব্য আলোচনার আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

ভারতের অবস্থান
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-ও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।

ইরানের অবস্থান: যুদ্ধবিরতি নয়, সমাধান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তারা কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান চান।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সমাধানের পথে বড় বাধা
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা না হলে আলোচনার অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়বে।
ফলে যুদ্ধের অবসান ও বাস্তবসম্মত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সংঘাতের মাঝে কূটনৈতিক সুর: বিপাকে পড়ে যুদ্ধ থামানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৯:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হুমকি থেকে সরে এসে আলোচনার কথা বললেও বাস্তব পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপের দাবি, অন্যদিকে ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা—সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

হুমকি থেকে আলোচনায়: ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন
প্রথমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন এবং তা না মানলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকিও দেন।
তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাময়িকভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিত রাখার বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছে।

ইরানের অস্বীকৃতি, পাল্টা হামলা
ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়নি।
এরপরই ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তেল আবিবসহ কয়েকটি শহরে সাইরেন বেজে ওঠে এবং কিছু স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। একটি বহুতল ভবনে আঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে, যদিও ক্ষতির প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও পড়ুন  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের: মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি

বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতা
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, কয়েকটি ভবনে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

একাধিক ফ্রন্টে বিস্তৃত সংঘাত
সংঘাত শুধু ইসরায়েল-ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। লেবানন থেকেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন—এ হামলার খবর পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পাল্টা হামলায় কেঁপে উঠেছে ইরান
ইরানের তেহরান, ইসফাহান ও শিরাজসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যে উল্লেখ আছে, কিছু শহরে হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষতি
সংঘাত শুরুর পর থেকে বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। লেবানন, ইরাক, ইসরায়েলসহ একাধিক দেশেও প্রাণহানির তথ্য এসেছে।
ইরানের ত্রাণ সংস্থার তথ্যমতে, বহু স্থাপনা, অ্যাম্বুলেন্স ও শিক্ষা-চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার ভবনে আঘাত লেগেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা
সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ বাড়ছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্ভাব্য আলোচনার আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

ভারতের অবস্থান
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-ও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।

ইরানের অবস্থান: যুদ্ধবিরতি নয়, সমাধান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তারা কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংঘাতের স্থায়ী সমাধান চান।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সমাধানের পথে বড় বাধা
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা না হলে আলোচনার অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়বে।
ফলে যুদ্ধের অবসান ও বাস্তবসম্মত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।