ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

ওশেনিয়া মহাদেশ: নীল সমুদ্রের বিস্তৃত ভূখণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 17

ছবি সংগৃহীত

 

ওশেনিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত সমুদ্রবেষ্টিত অঞ্চলগুলোর একটি। এটি মূলত প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য দ্বীপ, প্রবালদ্বীপ ও একটি বড় স্থলভাগ নিয়ে গঠিত। আয়তনের দিক থেকে প্রায় ৮৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই মহাদেশ পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের মধ্যে ক্ষুদ্রতম, তবে ভৌগোলিক বৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে এবং অ্যান্টার্কটিকার উত্তরে এর অবস্থান।

ওশেনিয়াকে সাধারণত চারটি উপঅঞ্চলে ভাগ করা হয়: অস্ট্রেলেশিয়া, মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও পলিনেশিয়া।

আরও পড়ুন  কক্সবাজার বাজার সৈকতে পর্যটকের উচ্ছ্বাস

এই মহাদেশের ১৪টি স্বাধীন দেশ হলো—

1. Australia 2. Fiji 3. Kiribati 4. Marshall Islands 5. Micronesia 6. Nauru 7. New Zealand 8. Palau 9. Papua New Guinea 10. Samoa 11. Solomon Islands 12. Tonga 13. Tuvalu 14. Vanuatu

১. অস্ট্রেলিয়া ২. ফিজি ৩. কিরিবাতি ৪. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ৫. মাইক্রোনেশিয়া ৬. নাউরু ৭.নিউজিল্যান্ড ৮. পালাউ ৯.পাপুয়া নিউ গিনি ১০. সামোয়া ১১. সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ১২. টোঙ্গা ১৩. টুভালু ১৪. ভানুয়াতু

এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী দেশ। নিউজিল্যান্ড উন্নত অর্থনীতি ও উচ্চ মানব উন্নয়ন সূচকের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো আয়তনে ছোট হলেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, হাজার হাজার বছর আগে পলিনেশীয় ও মেলানেশীয় জনগোষ্ঠী সমুদ্রপথে এই দ্বীপগুলোতে বসতি গড়ে তোলে। পরে ১৬শ শতাব্দী থেকে ইউরোপীয় অভিযাত্রীদের আগমন শুরু হয়। ব্রিটিশ, ফরাসি ও অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তি দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চল শাসন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ২০শ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে অধিকাংশ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

অর্থনৈতিকভাবে ওশেনিয়া বৈচিত্র্যময়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড উন্নত শিল্পোন্নত অর্থনীতি গড়ে তুলেছে। খনিজ সম্পদ, কৃষি, পশুপালন, শিক্ষা ও সেবা খাত তাদের আয়ের মূল উৎস। অস্ট্রেলিয়া লৌহ আকরিক, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে।

অন্যদিকে ফিজি, সামোয়া, ভানুয়াতুর মতো দেশগুলো পর্যটন, মৎস্য ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। নাউরু ও কিরিবাতির মতো ছোট রাষ্ট্রগুলো বৈদেশিক সহায়তা ও সামুদ্রিক সম্পদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অনেক নিম্নভূমি দ্বীপ ঝুঁকির মুখে।

সব মিলিয়ে, ওশেনিয়া ছোট হলেও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সামুদ্রিক ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে এক অনন্য মহাদেশ। এর বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপপুঞ্জ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এক স্বতন্ত্র ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, যা বিশ্ব মানচিত্রে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ওশেনিয়া মহাদেশ: নীল সমুদ্রের বিস্তৃত ভূখণ্ড

আপডেট সময় ০৭:৪২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ওশেনিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত সমুদ্রবেষ্টিত অঞ্চলগুলোর একটি। এটি মূলত প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য দ্বীপ, প্রবালদ্বীপ ও একটি বড় স্থলভাগ নিয়ে গঠিত। আয়তনের দিক থেকে প্রায় ৮৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই মহাদেশ পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের মধ্যে ক্ষুদ্রতম, তবে ভৌগোলিক বৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে এবং অ্যান্টার্কটিকার উত্তরে এর অবস্থান।

ওশেনিয়াকে সাধারণত চারটি উপঅঞ্চলে ভাগ করা হয়: অস্ট্রেলেশিয়া, মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও পলিনেশিয়া।

আরও পড়ুন  সেন্টমার্টিনে টানা নয় মাস পর্যটন কার্যক্রম স্থগিত

এই মহাদেশের ১৪টি স্বাধীন দেশ হলো—

1. Australia 2. Fiji 3. Kiribati 4. Marshall Islands 5. Micronesia 6. Nauru 7. New Zealand 8. Palau 9. Papua New Guinea 10. Samoa 11. Solomon Islands 12. Tonga 13. Tuvalu 14. Vanuatu

১. অস্ট্রেলিয়া ২. ফিজি ৩. কিরিবাতি ৪. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ৫. মাইক্রোনেশিয়া ৬. নাউরু ৭.নিউজিল্যান্ড ৮. পালাউ ৯.পাপুয়া নিউ গিনি ১০. সামোয়া ১১. সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ১২. টোঙ্গা ১৩. টুভালু ১৪. ভানুয়াতু

এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী দেশ। নিউজিল্যান্ড উন্নত অর্থনীতি ও উচ্চ মানব উন্নয়ন সূচকের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো আয়তনে ছোট হলেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, হাজার হাজার বছর আগে পলিনেশীয় ও মেলানেশীয় জনগোষ্ঠী সমুদ্রপথে এই দ্বীপগুলোতে বসতি গড়ে তোলে। পরে ১৬শ শতাব্দী থেকে ইউরোপীয় অভিযাত্রীদের আগমন শুরু হয়। ব্রিটিশ, ফরাসি ও অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তি দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চল শাসন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ২০শ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে অধিকাংশ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

অর্থনৈতিকভাবে ওশেনিয়া বৈচিত্র্যময়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড উন্নত শিল্পোন্নত অর্থনীতি গড়ে তুলেছে। খনিজ সম্পদ, কৃষি, পশুপালন, শিক্ষা ও সেবা খাত তাদের আয়ের মূল উৎস। অস্ট্রেলিয়া লৌহ আকরিক, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে।

অন্যদিকে ফিজি, সামোয়া, ভানুয়াতুর মতো দেশগুলো পর্যটন, মৎস্য ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। নাউরু ও কিরিবাতির মতো ছোট রাষ্ট্রগুলো বৈদেশিক সহায়তা ও সামুদ্রিক সম্পদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অনেক নিম্নভূমি দ্বীপ ঝুঁকির মুখে।

সব মিলিয়ে, ওশেনিয়া ছোট হলেও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সামুদ্রিক ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে এক অনন্য মহাদেশ। এর বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপপুঞ্জ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এক স্বতন্ত্র ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, যা বিশ্ব মানচিত্রে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।