০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি

তুরস্কে জুলাইয়ে বিরল তুষারপাত, অন্যদিকে দাবানলে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / 91

ছবি সংগৃহীত

 

 

তুরস্কের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত শুক্রবার বিরল এক আবহাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অস্বাভাবিকভাবে ভারী তুষারপাতের কারণে রিজে শহর ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলগুলো ঢেকে যায় বরফে। সাধারণত এই সময় সেখানে এমন তুষারপাতের নজির নেই।

স্থানীয় সাংবাদিক গেনচাগা কারাফাজলিওগ্লু বলেন, “রিজেতে আমরা বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচিত, মার্চে মাঝেমধ্যে তুষারপাত হয়, কিন্তু জুলাইয়ে এভাবে এত তুষার পড়তে আগে কখনো দেখিনি।” তিনি আরও জানান, আগের প্রজন্মের কিছু মানুষ ৩০-৪০ বছর আগে জুলাইয়ে হালকা তুষারপাত দেখেছেন, তবে এবারের মতো এত বিস্তৃত বরফের স্তর কখনো হয়নি।

প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ওভিত ইয়ায়লাসি মালভূমিও বরফে ঢেকে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আনজার ইয়ায়লাসি থেকে শুরু করে কাচকার মাউন্টেন ন্যাশনাল পার্ক পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা বরফে সাদা হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর্তভিন শহর, যা রিজে থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।

অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের বন ও পরিবেশমন্ত্রী ইব্রাহিম ইয়ুমাকলি জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি বড় আগুন শুক্রবার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ইজমির প্রদেশে বৃহস্পতিবারের আগুনে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী দিনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা আগুনের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে।

মুগলা ও হাতায় এলাকায় প্রবল বাতাসের কারণে দাবানলের ভয়াবহতা বেড়েছে। হাতায় প্রদেশ, যা সিরিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি, সেখানে এখনও আগুন নেভানোর জন্য জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী ইয়ুমাকলি।

তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে সারাদেশে ৬২৪টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশির ভাগই বিদ্যুতের তারের ত্রুটিজনিত কারণে ঘটেছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, আগুন লাগানোর অভিযোগে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১০ জনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

ধরে নেওয়া হচ্ছে, বেশিরভাগই কৃষক ও শ্রমিক, যারা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে গিয়ে স্পার্ক তৈরি করে অনিচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে ফেলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই তুরস্কের মতো অঞ্চলে এমন চরম আবহাওয়া- একদিকে অস্বাভাবিক তুষারপাত, অন্যদিকে ভয়াবহ দাবানল- আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

সূত্র: এএফপি

নিউজটি শেয়ার করুন

তুরস্কে জুলাইয়ে বিরল তুষারপাত, অন্যদিকে দাবানলে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চল

আপডেট সময় ১২:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

 

 

তুরস্কের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত শুক্রবার বিরল এক আবহাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অস্বাভাবিকভাবে ভারী তুষারপাতের কারণে রিজে শহর ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলগুলো ঢেকে যায় বরফে। সাধারণত এই সময় সেখানে এমন তুষারপাতের নজির নেই।

স্থানীয় সাংবাদিক গেনচাগা কারাফাজলিওগ্লু বলেন, “রিজেতে আমরা বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচিত, মার্চে মাঝেমধ্যে তুষারপাত হয়, কিন্তু জুলাইয়ে এভাবে এত তুষার পড়তে আগে কখনো দেখিনি।” তিনি আরও জানান, আগের প্রজন্মের কিছু মানুষ ৩০-৪০ বছর আগে জুলাইয়ে হালকা তুষারপাত দেখেছেন, তবে এবারের মতো এত বিস্তৃত বরফের স্তর কখনো হয়নি।

প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ওভিত ইয়ায়লাসি মালভূমিও বরফে ঢেকে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আনজার ইয়ায়লাসি থেকে শুরু করে কাচকার মাউন্টেন ন্যাশনাল পার্ক পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা বরফে সাদা হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর্তভিন শহর, যা রিজে থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।

অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের বন ও পরিবেশমন্ত্রী ইব্রাহিম ইয়ুমাকলি জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি বড় আগুন শুক্রবার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ইজমির প্রদেশে বৃহস্পতিবারের আগুনে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী দিনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা আগুনের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে।

মুগলা ও হাতায় এলাকায় প্রবল বাতাসের কারণে দাবানলের ভয়াবহতা বেড়েছে। হাতায় প্রদেশ, যা সিরিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি, সেখানে এখনও আগুন নেভানোর জন্য জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী ইয়ুমাকলি।

তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে সারাদেশে ৬২৪টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশির ভাগই বিদ্যুতের তারের ত্রুটিজনিত কারণে ঘটেছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, আগুন লাগানোর অভিযোগে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১০ জনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

ধরে নেওয়া হচ্ছে, বেশিরভাগই কৃষক ও শ্রমিক, যারা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে গিয়ে স্পার্ক তৈরি করে অনিচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে ফেলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই তুরস্কের মতো অঞ্চলে এমন চরম আবহাওয়া- একদিকে অস্বাভাবিক তুষারপাত, অন্যদিকে ভয়াবহ দাবানল- আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

সূত্র: এএফপি